মিরপুর, ১৮ ফেব্রুয়ারি – জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল ছয়টায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় সড়ক পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগে অংশ নেন। দলের কর্মীদের সঙ্গে মিলে তিনি নিজ হাতে ঝাড়ু চালিয়ে কয়েক মিনিট রাস্তা পরিষ্কার করেন এবং একই সময়ে দুইটি শপথ গ্রহণের কথা জানিয়ে দেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে গিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের ময়লা‑আবর্জনা দূর করার লক্ষ্য রাখছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, শারীরিক ময়লা পরিষ্কার করার পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, ফলে সমাজে দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পাবে।
শপথের সময় তিনি জুলাই মাসে ঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে উল্লেখ করে, ঐ ঘটনার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের কারণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই জুলাইকে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া প্রয়োজন, তিনি জোর দেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সব সংস্কার বাস্তবায়ন বর্তমান সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, বিরোধী দল সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে; সরকার উদ্যোগ না নিলে, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলবে এবং ত্যাগ করবে না।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি মিরপুরবাসী ও দেশের মানুষকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেন: “পরিষ্কার সমাজ ও দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে পরিবেশ সুন্দর থাকে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতে পৌঁছায়।” তিনি আরও যোগ করেন, পরিষ্কার পরিবেশের ফলে মানুষ উন্নত মানসিকতা গড়ে তুলবে এবং সমাজে দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে।
ডা. শফিকুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর জামায়াতের প্রতিটি ইউনিট কমপক্ষে আধা ঘণ্টা পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় করবে। এরপর সদস্যরা পরিবারসহ সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজে যুক্ত হবে, তিনি জানান।
কর্মসূচিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মিলে সড়ক পরিষ্কারে অংশ নেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে চায়। শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করা, দলের নীতি ও কার্যক্রমকে বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের সরাসরি জনসেবা কার্যক্রম বিরোধী দলের জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। ডা. শফিকুর রহমানের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।



