বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, সচিবালয়ের মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে জানালেন যে বাংলাদেশে মব কালচার আর চলবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে কোনো রূপে এই ধরনের আচরণকে উৎসাহিত করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পর তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বে যে নেতিবাচক চিত্র গড়ে উঠেছিল তা পুনর্গঠন করা জরুরি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।
মন্ত্রীর আরেকটি মূল লক্ষ্য হল মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা। তিনি উল্লেখ করেন, সব স্তরে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো অবৈধ তদবিরের সুযোগ থাকবে না।
অবৈধ তদবিরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি কোনো বাহিনীর সদস্য অপরাধে জড়িত পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মব কালচার নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি স্পষ্টভাবে বলছেন যে বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। এই ধরনের আচরণকে আর কখনো উৎসাহিত করা হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রদর্শন ও সমাবেশের অধিকার সংরক্ষণে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দাবিদাওয়া অর্জনের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধের মতো অবৈধ পদ্ধতি সহ্য করা হবে না।
বিপক্ষের কিছু নেতা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জোর দেন, মব কালচার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে হলে আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মব কালচার শেষের এই ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকারকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন ও তদারকি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষণ ও তদবিরের জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করা সম্ভবপর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বোপরি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মব কালচার শেষের ঘোষণা বাংলাদেশে নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থার সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সরকার যদি এই নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে, তবে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



