শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় সভাকক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন নকল‑প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটার জন্য তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সমন্বিত সংস্কার চালু হবে। এর অংশ হিসেবে কারিকুলাম পর্যালোচনা, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ইংরেজি দক্ষতার ওপর জোর, এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা পূরণে ন্যানো‑টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ হল স্নাতকোত্তর পর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, তাই শিক্ষা নীতি এই দিকটি বিবেচনা করে গঠন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জোর দেন, পুরনো ও ‘ব্যাকডেটেড’ শিক্ষাব্যবস্থা আর চালু রাখা যাবে না। গ্লোবাল ভিলেজের যুগে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম গঠন করা জরুরি। এ জন্য সরকার ডিজিটাল শিক্ষার অবকাঠামো শক্তিশালী করবে এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, অতীতের কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য দায়িত্বশীলতা আর অনুসন্ধান করা হবে না, তবে পূর্বের সরকারের সময়ে কোনো দুর্নীতি ঘটেনি এবং বর্তমানেও তা না ঘটার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে ফলাফল পরবর্তীতে জানানো হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, সরকার এই বিষয়টি জানে এবং যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সব বিষয়ের বিশদ আলোচনা সম্ভব হয়নি, তবে শিক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় চালিয়ে যাবেন।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্বে উন্নত দেশগুলোর পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ পায়। তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য কেবল তত্ত্বগত জ্ঞান নয়, বরং ব্যবহারিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতা গড়ে তোলা, যাতে স্নাতকোত্তর পর কর্মসংস্থান সহজ হয়।
এই মুহূর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
শিক্ষা সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, ন্যানো‑টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত কোর্সগুলোকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অবশেষে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: “আপনার শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে দক্ষতা অর্জন করুন এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা তৈরিতে সময়মতো পরামর্শ নিন।” এই নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।



