শরীয়তপুর শহরের পালং বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্যামসুন্দর জিও মন্দিরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দুইটি দানবাক্স ভাঙা এবং তাতে সংরক্ষিত অর্থ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, দানবাক্সগুলোতে অন্তত এক লাখ টাকা ছিল।
পালং মডেল থানার ওসিআই শাহ আলম জানান, অভিযোগের পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে মন্দিরের সভাপতি মুকুল চন্দ্র রায় জানান, রাতের অন্ধকারে দুজন অপরাধী দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে মন্দিরে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ভক্তরা দুইটি দানবাক্সে এক লাখ টাকার বেশি দান করেছিলেন।
সকালবেলা, মন্দিরে পূজা সম্পন্ন করার পর পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী প্রথমে বাইরের দানবাক্সটি ভাঙা দেখেন। তিনি তা খুলে দেখার পর জানেন, গ্রিল কাটা এবং ভিতরের দানবাক্সটিও ভেঙে অর্থ নিখোঁজ। একই সময়ে, পাশের কালি মন্দিরের লোহার গ্রিলের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুরোহিত চক্রবর্তী ঘটনাটি স্থানীয়দের জানালে, তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ উপস্থিতি নিশ্চিত করার পর, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাস্থলের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
মন্দিরের সভাপতি রায় উল্লেখ করেন, পূর্বেও মন্দিরে চুরি ঘটেছে, তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কোনো দোষী ধরা পড়েনি। এইবারের চুরির পর তিনি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায়।
পালং মডেল থানার ওসিআই শাহ আলম বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দল পাঠিয়েছি। তদন্ত চলমান, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।
মন্দিরের দানবাক্সগুলো সাধারণত ধর্মীয় দান সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং স্থানীয় ভক্তদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করে। এই ধরনের দানবাক্সে চুরি ঘটলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এই ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানে রাতের সময় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত গার্ড এবং নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।
মন্দিরের পরিচালনা কমিটি এই ঘটনার পর দ্রুত তদন্তের ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এই চুরির ফলে মন্দিরের আর্থিক ক্ষতি এবং ধর্মীয় পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরের নিরাপত্তা বাড়াতে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরাধের শিকার দানবাক্সে সংরক্ষিত অর্থের সঠিক পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে মন্দিরের কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তা এক লাখ টাকার বেশি।
পুলিশের তদন্তে দেখা যাবে, চুরির পদ্ধতি, ব্যবহার করা সরঞ্জাম এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে কী ধরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শরীয়তপুরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ধর্মীয় সংস্থাগুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্দিরের দানবাক্সে চুরি ঘটার পর, ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে আর্থিক রেকর্ড এবং দানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, মন্দিরের পরিচালনা কমিটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে।
শরীয়তপুরের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য এই চুরি একটি বড় ধাক্কা, তবে দ্রুত তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি বজায় থাকবে।
বিবেচনা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে দানবাক্সের নকশা পরিবর্তন করে সুরক্ষিত উপকরণ ব্যবহার করা এবং নিয়মিতভাবে নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড করা।
মন্দিরের সভাপতি রায় শেষমেশ জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীরা শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে এবং মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
পালং মডেল থানার ওসিআই শাহ আলমের মতে, তদন্তের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



