মাসৌরি থানা অধীনে অবস্থিত মহারাজচক গ্রামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রবেশদ্বার বন্ধ হওয়ায় ট্রেনে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে, যেখানে শিক্ষার্থী কোমল কুমারি তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রের দিকে রওনা হন।
কোমল কুমারি, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মহারাজচকে তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য রওনা হন। পরীক্ষার কেন্দ্র তার বাড়ি থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সকাল নয়টায় প্রবেশের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল।
কোমল সকাল প্রায় নয়টা ত্রিশ মিনিটে কেন্দ্রে পৌঁছান, তখনই প্রবেশদ্বার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি কয়েকবার দরজায় নক করে অনুমতি চেয়েছেন এবং উল্লেখ করেন যে পরীক্ষা সাড়ে নয়টায় শুরু, তিনি মাত্র দশ মিনিট দেরি করেছেন।
প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কোমল হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। তার পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল নিকটবর্তী নদৌলে গিয়ে একটি ট্রেনে চড়া, যেখানে তিনি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ট্রেনের মাঝামাঝি অংশে লাফিয়ে পড়েন।
সেই ট্রেনটি তারেগনা ও মাসৌরি কোর্ট স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় চলছিল, যেখানে কোমল ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মতে, তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছেন।
এই আত্মহত্যা পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা কতটা কঠোর হওয়া উচিত, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, পরীক্ষার সময়সূচি যদি শিক্ষার্থীর বাস্তবিক চলাচলকে বিবেচনা না করে নির্ধারিত হয়, তবে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শিক্ষা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন এখন পরীক্ষার প্রবেশদ্বার বন্ধের নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় সময়সীমা বা বিকল্প প্রবেশের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে দেরি হওয়া একা শিক্ষার্থীর মানসিক চাপের কারণ না হয়।
পাঠকবৃন্দের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সীমা মিস হয়, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা চাওয়া উচিত। এছাড়া, মানসিক চাপের সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, অথবা মানসিক স্বাস্থ্যের সেবা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মতামত কী? পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আপনার কী প্রস্তাব আছে?



