25 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপিটার কান্না ৫০ বছর পর জৈবিক পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ

পিটার কান্না ৫০ বছর পর জৈবিক পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ

ডি:রিমের গায়ক পিটার কান্না, ১৯৯০-এর দশকের হিট “থিংস ক্যান ওনলি গেট বেটার”‑এর সৃষ্টিকর্তা, ৫০ বছর পর উত্তর আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে তার জৈবিক পিতা প্যাট্রিক হ্যানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎ তার দীর্ঘ অনুসন্ধানের শেষ চিহ্ন, যা তার জীবনের বহু দিককে নতুন আলোতে দেখিয়েছে।

কান্না ১৯৬৬ সালে বেলফাস্টের একটি মা‑শিশু আশ্রয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে লেস ও মনিকা কান্নার দত্তক হন। দত্তক পরিবারে লন্ডনডেরিতে বড় হওয়ার সময় তিনি সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলেন, তবে তার জন্মমূল সম্পর্কে জানার সুযোগ কখনো আসে না।

মনিকা কান্না যখন তার ছোটবেলায়ই জানিয়ে দেন যে তিনি দত্তক, তখন পিটার তার সত্যিকারের মা‑বাবার পরিচয় সম্পর্কে প্রথমবারের মতো সচেতন হন। তিনি তখনই বলেছিলেন, “এক রাতে মা বললেন, তুমি আমার সন্তান নয়, অন্য কেউ আমাকে দিয়েছে,” যা তার মনের গভীরে প্রশ্নের সঞ্চার করে।

কিশোর বয়সে এই তথ্যকে তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করেন, তবে তা তার আত্মপরিচয়ের ভিত্তি পরিবর্তন করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি জানেন যে তার মতোই অনেক মানুষই দত্তক হওয়ার সত্য জানার পর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে কান্না ডি:রিম ব্যান্ডের সঙ্গে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং দ্রুতই চার্টে শীর্ষে ওঠেন। “থিংস ক্যান ওনলি গেট বেটার” গানের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান, এবং ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে ভবিষ্যৎ পদার্থবিজ্ঞানী ব্রায়ান কক্সও ছিলেন, যিনি পরে বিজ্ঞান ও টেলিভিশনে পরিচিতি লাভ করেন।

সঙ্গীতের শীর্ষে পৌঁছানোর পরেও কান্না তার জন্মমূলের সন্ধানে থেমে ছিলেন না। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুরনো রেকর্ড, পরিবারিক নথি এবং আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধীরে ধীরে তার জৈবিক পিতার সন্ধান পেতে শুরু করেন। এই অনুসন্ধান তাকে ইংল্যান্ডের বার্নস্লি, ইয়র্কশায়ার পর্যন্ত নিয়ে যায়।

বার্নস্লিতে পৌঁছে কান্না প্যাট্রিক হ্যানার সন্ধান পান, যিনি নিজেও সঙ্গীতের পেশায় ছিলেন এবং ট্যুরিং মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। হ্যানা পরিবারে সঙ্গীতের ঐতিহ্য ছিল, যার মধ্যে পিটারকে অনুপ্রাণিত করা তার অর্ধবোন ফিলিপা হ্যানা, যিনি ক্রিশ্চিয়ান সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক তারকা, এবং অর্ধভাই স্টুয়ার্ট জেন্ডার, যিনি জামিরোয়াকাই ব্যান্ডের বেসিস্ট হিসেবে পরিচিত।

কান্না যখন পিতার বাড়ির দরজা টোকা দেন, তখন তার মুখে অশ্রু ও বিস্ময়ের মিশ্রণ দেখা যায়। তিনি বলেন, “এটা এখনও স্বপ্নের মতো, এমন এক মুহূর্তে আমি নিজের জীবনের সবকিছু ফিরে পেয়েছি,” এবং এই অনুভূতি তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত একটি গভীর আবেগের প্রকাশ।

পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ কেবল পারিবারিক বন্ধনই পুনরুদ্ধার করেনি, বরং পিটারকে তার সঙ্গীতের শিকড়ের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করেছে। পিতার জীবনের গল্পে তিনি জানেন যে হ্যানা পরিবারে সঙ্গীতের পরিবেশ ছিল, যা তার নিজের সৃষ্টিশীলতা গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

কান্না এবং অর্ধভাই স্টুয়ার্ট জেন্ডারও পরে একত্রিত হন এবং দুজনই তাদের সঙ্গীত যাত্রা নিয়ে আলোচনা করেন। দুজনই স্বীকার করেন যে পারিবারিক সঙ্গীতের ঐতিহ্য তাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন শৈলীতে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যদিও তাদের পথ ভিন্ন ছিল।

এই সাক্ষাৎ পিটার কান্নার জন্য একটি নতুন সূচনা, যেখানে তিনি নিজের অতীতকে স্বীকার করে ভবিষ্যতের সৃজনশীল দিককে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। আত্মপরিচয় ও পারিবারিক ইতিহাসের অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দিয়ে, পাঠকদেরও নিজেদের শিকড় খুঁজে বের করার জন্য সময় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যায়; কারণ সত্যিকারের পরিচয়ই জীবনের পথে স্থিতিশীলতা এনে দেয়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments