25 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দুর্নীতি করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও মামলা হবে বলে...

আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দুর্নীতি করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও মামলা হবে বলে সতর্কতা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রণালয়ের প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় দুর্নীতি বিরোধী কঠোর নীতি ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শপথ গ্রহণের পরপরই এই বিষয়টি তুলে ধরা সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

শুক্রবার শপথ গ্রহণের পরপরই বুধবারের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব ও প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী অংশ নেন এবং প্রশ্নোত্তর সেশন পরিচালিত হয়।

মন্ত্রীর মূল বক্তব্যের মধ্যে ছিল বিচারপতি ও বিচারকের সততার স্বভাবের ওপর জোর। তিনি বলেন, বিচারপতি শব্দের সঙ্গে স্বভাবতই সততার গুণ যুক্ত, তাই ‘সৎ বিচারপতি’ বা ‘দুর্নীতিবাজ বিচারপতি’ এর মতো আলাদা সংজ্ঞা প্রয়োজন নেই। বিচারক শব্দেই সততার ধারণা নিহিত, তাই বিচারকদের সৎ-অসৎ ভাগে ভাগ করা তার দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী।

বিচারিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রায়শই ব্যবহৃত ‘দুর্নীতিবাজ বিচারপতি’ ও ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’ শব্দগুলোকে তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিচারিক পেশা নিজেই নৈতিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে, তাই অতিরিক্ত লেবেলিং বিচারিক স্বতন্ত্রতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা মনে করেন বেতনই একমাত্র জীবনের চালিকা শক্তি, তাদের জন্য সরকারি চাকরি আর উপযুক্ত নয়। অবসরের পরেও তারা ওকালতি করতে পারে, তাই নৈতিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুর্নীতি সংক্রান্ত তার সতর্কতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতি করে, তবে তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, আইনি মামলা চালু হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না এবং এ ধরনের কাজের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘোষণাটি পূর্বে সরকার কর্তৃক গৃহীত অ্যান্টি-করাপশন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। মন্ত্রীর এই মন্তব্য পূর্বের প্রতিশ্রুতি, যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি, পুনরায় নিশ্চিত করে। ফলে সরকারী নীতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আরও দৃঢ়তা আসার সম্ভাবনা দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের স্পষ্ট সতর্কতা ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া, এটি সরকারের অ্যান্টি-করাপশন ক্যাম্পেইনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হয়।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

সারসংক্ষেপে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর এই সতর্কতা সরকারী কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টিপাত বাড়াবে এবং দুর্নীতি বিরোধী নীতি বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। ভবিষ্যতে এই নীতি অনুসরণে কী ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments