অ্যান্টার্কটিকের গহীন সমুদ্রতলে হাঙরের উপস্থিতি প্রথমবারের মতো ক্যামেরা রেকর্ড করেছে, যা সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। এই রেকর্ডটি জানুয়ারি মাসে সাউথ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি প্রায় ৪৯০ মিটার গভীর জলে তোলা হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই দৃশ্যটি অ্যান্টার্কটিকের অন্ধকার, শীতল পানিতে শিকারীর অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি নির্দেশ করে।
ক্যামেরা ফিডে দেখা যায়, একটি বড় শার্ক ধীর গতিতে তলদেশের কাছাকাছি সাঁতার কাটছে, তার দেহের রঙ এবং গঠন অ্যান্টার্কটিকের ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বলে মনে হয়। এই রেকর্ডটি পূর্বে কোনো সরাসরি চিত্র পাওয়া যায়নি, ফলে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা যে হাঙররা এই অঞ্চলে বাস করে না, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অ্যান্টার্কটিকের সমুদ্রতল সাধারণত তীব্র শীতলতা এবং কঠোর পরিবেশের জন্য পরিচিত, যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যায়। তাই হাঙরের উপস্থিতি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে কিছু শার্ক প্রজাতি শীতল জলে বেঁচে থাকতে সক্ষম। এই রেকর্ডটি হাঙরের পরিবেশগত অভিযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করে।
বিজ্ঞানীরা হাঙরের এই স্থানান্তরের পেছনে দুইটি প্রধান কারণ উল্লেখ করছেন। একদিকে, গ্লোবাল উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ছে, যা হাঙরকে দক্ষিণের দিকে সরে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত যে এই অঞ্চলটি এত কঠিন হওয়ায় পূর্বে হাঙরের উপস্থিতি মানব নজর থেকে দূরে রয়ে গিয়েছিল, এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাস করে আসছে।
হাঙরের খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে গবেষকরা অনুমান করছেন, অ্যান্টার্কটিকের গভীর স্তরে তিমির মৃতদেহ বা বিশাল স্কুইডের অবশিষ্টাংশ হাঙরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের বড় শিকারী প্রাণী সমুদ্রের নিচের স্তরে পুষ্টি চক্রকে সমর্থন করে, ফলে হাঙরের বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। তবে এই অনুমান এখনও পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।
অ্যান্টার্কটিকের গবেষণা মৌসুম সীমিত, কারণ এখানে কেবলমাত্র বছরের তিন মাসই শীতল শর্তে কাজ করা যায়। কঠোর আবহাওয়া, বরফের মোটা স্তর এবং অল্প আলো গবেষকদের কাজকে কঠিন করে তুলেছে, ফলে সমুদ্রের গভীর স্তরের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞান এখনও সীমিত। এই সীমাবদ্ধতা হাঙরের উপস্থিতি প্রথমবারের মতো রেকর্ড হওয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এই আবিষ্কারটি সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। হাঙর কি অ্যান্টার্কটিকের পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে, নাকি এটি সাময়িক পরিবর্তনের ফল? ভবিষ্যতে আরও গভীর সমুদ্রতল ক্যামেরা এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, যাতে হাঙরের আচরণ এবং বাসস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গড়ে তোলা যায়।
পাঠক হিসেবে আমরা এই তথ্যকে শান্তভাবে গ্রহণ করা উচিত এবং সমুদ্রের পরিবর্তনশীল পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। অ্যান্টার্কটিকের গভীর সমুদ্রে হাঙরের উপস্থিতি কি জলবায়ু পরিবর্তনের সূচক, নাকি প্রাকৃতিক বাসস্থানের দীর্ঘমেয়াদী অংশ, তা জানার জন্য আরও গবেষণা জরুরি। আপনার মতামত কী, এবং আপনি কি এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে সমর্থন করবেন?



