তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শপথ গ্রহণের পর প্রথম কাজ হিসেবে, বুধবার দুপুর একটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রেসক্লাবের দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন, যেখানে উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ মন্ত্রীর আগমন স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। স্বাগত জানার পর স্বপন টিভি রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ চালিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ইউনিয়নস (বিএফইউজ) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সহসভাপতি কেএম মহসিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি বাছির জামাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য কাজী রওনাক হোসেন এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীর নতুন দায়িত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি সবসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখবেন এবং এই সম্পর্ককে তার রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিক সমাজের সমস্যার সমাধান না হলে গণমাধ্যমের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা কঠিন হবে।
স্বপন আরও জানান যে, বর্তমান সরকারের এবং তারেক রহমানের পরিকল্পনার অধীনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিকল্পনা শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, সাংবাদিকমহলসহ সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ধৈর্য্যপূর্ণ মতবিনিময় করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ে। তিনি ভবিষ্যতে এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নীতি নির্ধারণে সাংবাদিকদের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রেসক্লাবের কার্যক্রম শেষ করার পর স্বপন সরাসরি সচিবালয়ে গিয়ে তার নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা মন্ত্রীর আগমনে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান এবং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুতি নেন।
মন্ত্রীর সচিবালয়ে প্রথম সফরে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি করেন, মন্ত্রণালয়ের কাঠামো ও কাজের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত briefing গ্রহণ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ভবিষ্যতে তথ্য ও সম্প্রচার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
সার্বিকভাবে, শপথোত্তর প্রথম দিনেই স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্বকে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার এই উদ্যোগ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার দিকে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।



