সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়কে জুলাই ১৯৭২ অভ্যুত্থানকে ‘অপমান’ করার শামিল বলে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই না হলে বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো ভিন্ন হতো এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদও সম্ভব হতো না।
শফিকুরের বক্তব্যের পটভূমি হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান, যেখানে সব সদস্যকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি জোটের কিছু সংসদ সদস্য শপথ না নেওয়ায় এই আদেশের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শপথের ‘সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করে শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, সংবিধান পরিবর্তনের আগে শপথ গ্রহণের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, ফলে শপথ না নেওয়া বৈধ।
প্রথমে জামায়াত-এ-ইসলামি ও তাদের জোটসঙ্গী শপথ না নেওয়ার কথা প্রকাশ করলেও পরে দু’ধরনের শপথই নিয়েছেন। শপথ না নেওয়া এবং নেওয়ার মধ্যে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক সমন্বয়ের একটি সূচক হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বুধবার জামায়াত-এ-ইসলামির উদ্যোগে ‘ক্লিন ঢাকা গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানটি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শফিকুর রহমান রাস্তার ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার কাজ শুরু করেন। এই কার্যক্রমটি স্থানীয় ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।
শফিকুরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ফজরের পরে ইউনিটের সদস্যরা রাস্তা পরিষ্কার করবে এবং এই উদ্যোগকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার তহবিল দেবে বা দেবে না, তা কাজের গতি থামাবে না; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করে তিনি দলীয় ও ধর্মীয় পার্থক্যকে পেছনে ফেলে পরিচ্ছন্নতার কাজের আহ্বান জানান। ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন রাস্তা ঝাড়ু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নাগরিকদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব জাগাতে চান।
শপথের বিষয় এবং জুলাই আন্দোলনের উল্লেখের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি সরকারকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। শফিকুরের মন্তব্য সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান দৃঢ় করতে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে লক্ষ্যবদ্ধ।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সম্পন্ন হলে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অধীনে সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়া সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় ও বিরোধের নতুন মাত্রা তৈরি করবে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার দিক নির্ধারণ করবে।
শফিকুরের মন্তব্য ও ক্লিন ঢাকা উদ্যোগ একসঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সংবিধান সংস্কার, শপথের বিষয় এবং জুলাই আন্দোলনের পুনর্বিবেচনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।



