মেটা হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালু করতে নভিডিয়া’র গোপনীয় কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, এ নিয়ে দুই সংস্থা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মেটা হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর ডেটা গোপনীয়তা ও অখণ্ডতা বজায় রেখে এআই ফিচার যোগ করবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে মেটা নভিডিয়া’র ব্ল্যাকওয়েল ও রুবিন জিপিইউয়ের “মিলিয়ন” সংখ্যক ইউনিট ক্রয় করবে। এই জিপিইউগুলো সর্বশেষ আর্কিটেকচার ভিত্তিক এবং উচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, যা এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্সে ব্যবহৃত হবে।
নভিডিয়া’র গোপনীয় কম্পিউটিং প্রযুক্তি ডেটা প্রক্রিয়াকরণের সময়ও এনক্রিপশন বজায় রাখে, ফলে তথ্য শুধুমাত্র সার্ভারে পৌঁছানোর সময় নয়, গণনা চলাকালেও সুরক্ষিত থাকে। এই পদ্ধতি ব্যবহারকারী ও সেবা প্রদানকারীর মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায় এবং ডেটা লিকের ঝুঁকি কমায়।
প্রযুক্তিটি সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষা করতেও সহায়তা করে। মেটা বা তৃতীয় পক্ষের এআই এজেন্ট সরবরাহকারী তাদের অ্যালগরিদম ও মডেলকে এনক্রিপ্টেড অবস্থায় চালাতে পারবে, ফলে কপিরাইট লঙ্ঘন বা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
মেটা নভিডিয়া’র গ্রেস সিপিইউগুলোও স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহার করবে, যা পূর্বে জিপিইউয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চালিত হতো। গ্রেস সিপিইউগুলো ইনফারেন্স ও এজেন্টিক কাজের জন্য অপ্টিমাইজড, ফলে রিয়েল-টাইম এআই সেবা দ্রুত ও দক্ষভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্তভাবে মেটা নভিডিয়া’র স্পেকট্রাম-এক্স ইথারনেট সুইচও গ্রহণ করবে। এই সুইচগুলো উচ্চ ব্যান্ডউইথ ও কম লেটেন্সি নিশ্চিত করে, যা বিশাল ডেটা ট্র্যাফিকের সময় সেবা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেটা ২০২৬ সালে এআই-তে সর্বোচ্চ ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নভিডিয়া’র হার্ডওয়্যারে যাবে, যা ‘দশকোটি বিলিয়ন’ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
এই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে মেটা ২০২৮ সালের মধ্যে ৩০টি ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবে, যার মধ্যে ২৬টি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত হবে। মোট প্রকল্পের জন্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ আর্থিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা ক্লাউড অবকাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা এখন এআই চালিত স্মার্ট রেসপন্স, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ও কন্টেন্ট সুপারিশের মতো নতুন ফিচার পেতে পারে, তবুও তাদের চ্যাটের গোপনীয়তা বজায় থাকবে। গোপনীয় কম্পিউটিং নিশ্চিত করে যে ব্যবহারকারীর বার্তা সার্ভারে প্রক্রিয়াকরণের সময়ও এনক্রিপ্টেড থাকে।
ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিতে, নভিডিয়া’র গোপনীয় কম্পিউটিংকে বৃহৎ স্কেলে প্রথমবারের মতো মেটা ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ক্লাউড এআই সেবার নিরাপত্তা মানকে নতুন স্তরে নিয়ে যাবে এবং অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি করবে।
এছাড়া তৃতীয় পক্ষের এআই এজেন্ট সরবরাহকারীরাও এই নিরাপদ পরিবেশে তাদের সেবা চালু করতে পারবে, যা হোয়াটসঅ্যাপের ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ডেটা সুরক্ষা ও বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষার এই সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী এআই অ্যাপ্লিকেশনকে উৎসাহিত করবে।
সারসংক্ষেপে, মেটা ও নভিডিয়া’র এই অংশীদারিত্ব হোয়াটসঅ্যাপের এআই ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে। বৃহৎ আর্থিক বিনিয়োগ ও উন্নত হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে দুই কোম্পানি ডিজিটাল যোগাযোগের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা উভয়ই উন্নত করার পথে অগ্রসর।



