আজ উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে, যা জুলাই জাতীয় চার্টার ২০২৫-র আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পিটিশনটি ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। পিটিশন দায়েরের মূল উদ্দেশ্য হল চার্টারের কার্যকারিতা স্থগিত করা এবং সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ করা যে কেন এটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক নয়।
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ ইউনুস আলী আকন্দের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে, যাকে জনস্বার্থের মামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতে অনুরোধ করেছেন যে চার্টারের কার্যকরী ক্ষমতা তৎকালিকভাবে স্থগিত করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হোক।
আকন্দের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই যা একটি জাতীয় চার্টারকে বৈধ করে, বিশেষ করে এতে অন্তর্ভুক্ত রেফারেন্ডাম এবং ১০০ সদস্যের উপসভার প্রস্তাবনা। তিনি উল্লেখ করেন যে সংবিধানের কাঠামোতে এই ধরনের ব্যবস্থা অনুমোদিত নয়। “অতএব, এই চার্টারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা উচিত,” তিনি বলেন।
পিটিশনটি উচ্চ আদালতে পরবর্তী সপ্তাহে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে বলে তিনি জানান। শুনানির সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় চার্টার ২০২৫ মূলত অন্তবর্তীকালীন সরকার দ্বারা জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের ব্যাপক উত্থান-পতনের পর প্রণয়ন করা হয়। এই সংস্কার পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং রাজনৈতিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন করা।
চার্টারটি গত বছর ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থনে স্বাক্ষরিত হয় এবং এতে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ৪৭টি সংস্কার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পদে দশ বছরের সীমা আরোপ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” গঠনের লক্ষ্য। এছাড়া বিচারিক স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালীকরণ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার জন্য নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত।
এই সংস্কারগুলো ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রেফারেন্ডাম ও সংসদীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। ভোটে “হ্যাঁ” ভোটের হার ৬০.২৬% এ পৌঁছায়, যা উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের সূচক।
রেফারেন্ডাম ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে গতকাল আরেকজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন, যেখানে তিনি রেফারেন্ডামের বৈধতা ও ফলাফল বাতিলের দাবি করেন। এই পিটিশনটি পূর্বের পিটিশনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলমান।
উচ্চ আদালত উভয় পিটিশনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে যথাযথ রায় প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি চার্টারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো কার্যকর হতে পারবে না এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার দরজা খুলে যাবে।
অন্যদিকে, চার্টারের সমর্থকরা রেফারেন্ডামের ফলাফলকে বৈধ গণতান্ত্রিক প্রকাশ হিসেবে রক্ষা করছেন এবং সংশোধনগুলোকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছেন। এই বিরোধের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী সপ্তাহে উচ্চ আদালতে শোনানির সময়সূচি নির্ধারিত হলে, উভয় পক্ষের যুক্তি শোনা হবে এবং রায়ের ভিত্তিতে দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে সম্ভাব্য পরিবর্তন ঘটবে। এই প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি ন্যায়বিচারকে পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।



