ইন্টারন্যাশনাল অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়া জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ বলে পদোন্নতির বিরোধিতা করার কথা জানালেন। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসানকে একবার লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন, তবে সেই সময়ের পদোন্নতি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘ভালো কর্মকর্তা’ বলে সুপারিশ করেছিল।
ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল, যার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, এবং বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর জেরার সময় এই বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। টিটো জিজ্ঞাসা করেন, ২০১২‑২০১৫ সময়কালে জিয়াউল কতবার পদোন্নতি পেয়েছেন এবং তার পক্ষে কতজন সুপারিশ করেছিলেন। ইকবাল করিম ভুঁইয়া উত্তর দেন যে, একবারই পদোন্নতি হয়েছে এবং তৎকালীন মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। মোমেন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করলেও, অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘ভালো কর্মকর্তা’ বলে বিবেচনা করে পদোন্নতির সুপারিশ করেন।
ইকবাল করিম ভুঁইয়া আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে স্টাফ কলেজ সম্পন্ন না করলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে উন্নীত করা যায় না। জিয়াউল আহসান স্টাফ কলেজে ভর্তি হননি, কোনো কোর্স সম্পন্ন করেননি এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডের অভিজ্ঞতা নেই, যা কর্নেল পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত। এই ভিত্তিতে তিনি জিয়াউল আহসানকে কখনোই ‘ভালো কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য করেননি।
গুম-খুনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত। তার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং নাজনীন নাহা আইনগত সহায়তা প্রদান করছেন। ইকবাল করিম ভুঁইয়ার জেরার অংশটি ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাকি রয়েছে, যা পরবর্তী সেশনে সম্পন্ন হবে।
এই মামলায় গুম-খুনের অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে জিয়াউল আহসানের পদোন্নতি ও সেবাকালীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলমান এই বিচার প্রক্রিয়া দেশের মানবাধিকার ও সামরিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে তা বিচারকের রায়ের ওপর নির্ভরশীল, তবে বর্তমান পর্যায়ে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত পদক্ষেপ এবং তার পদোন্নতির বিরোধিতা স্পষ্টভাবে রেকর্ডে রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং পরবর্তী জেরার তারিখ সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে জানানো হবে। এই মামলায় প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আইনি বিশ্লেষণ একত্রে বিচারকের সামনে উপস্থাপিত হবে, যা শেষ পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



