স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সেক্রেটারিয়েটে সরকারের প্রথম কর্মদিবসে গৃহস্থ বিচার (মব জাস্টিস) নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শৃঙ্খলা অবনতির কিছু মাত্রা ছিল, তবে তা দ্রুত সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি বড় ঝড় আমাদের ওপর দিয়ে গেছে; বিপ্লব, উত্থান, গণআন্দোলন ঘটেছে। এই মুহূর্তে সবকিছু তৎক্ষণাৎ ঠিক হবে বলে আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শীঘ্রই আয়োজনের জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। তিনি প্রশ্নের জবাবে ইন্টারিম সরকারী কার্যক্রমের উপর হোয়াইট পেপার প্রকাশের প্রয়োজন নেই, তা উল্লেখ করে বলেন, “বিশেষ মুহূর্তে তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করেছে। মূল বিষয় ছিল গণতন্ত্রে রূপান্তর, যা তারা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই তাদের প্রচুর সাফল্যের জন্য প্রশংসা করা উচিত।”
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “সবারই মতামত ছিল যে এই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক, তাই এটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।” আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্তের জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষ হওয়ার পর তথ্য জানানো হবে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি দুর্বল কিনা তা নিয়ে প্রশ্নে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এতটা খারাপ নয়। আপনারা যেমন উপস্থাপন করছেন তেমন নয়। শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অর্থনীতিতে মাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, ব্যাংকিং খাতও এখন অধিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো প্রায় ধ্বংসের কাছাকাছি ছিল, তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা এগুলোকে আরও উন্নত করতে পারব।”
সরকারের মুখ্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে চ্যালেঞ্জই জাতি গড়ার ভিত্তি। আমাদের কাজ হল দেশকে গড়ে তোলা।” তিনি আরও যোগ করেন, “গণতন্ত্রই আমাদের ভিত্তি, এবং তা রক্ষার জন্য সকল স্তরে সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যগুলো সরকার গঠনের পর প্রথম দিনেই প্রকাশ পেয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিকের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপের সূচক। গৃহস্থ বিচার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে পারে।
মন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্বের চেয়ে উন্নত অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের জন্য সমন্বিত নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহস্থ বিচার নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে শীঘ্রই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনমতকে স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিশদ জানার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।



