ঢাকা, করোয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অফিসে আজ সকাল ১১ টায় ‘আলো’ শিরোনামের একটি বিশেষ শিল্পপ্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্রের অফিসে সংঘটিত আগুনের হামলা ও ধ্বংসাবশেষকে শিল্পের মাধ্যমে পুনর্গঠন করে, বেঁচে থাকার সংকল্প ও স্থিতিস্থাপকতার বার্তা দেয়।
প্রদর্শনীটি প্রখ্যাত শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সাজানো হয়েছে। তিনি আগুনে পুড়া বই, গলে যাওয়া কম্পিউটার মনিটর এবং ধোঁয়াটে সংবাদকক্ষের ধ্বংসাবশেষকে পুনর্গঠন করে শিল্পকর্মের রূপ দিয়েছেন, যা দর্শকদের সামনে ধ্বংসের পরিমাণ ও প্রকাশনা চালিয়ে যাওয়ার অটুট ইচ্ছা উভয়ই তুলে ধরে।
প্রদর্শনীর মধ্যে ভিডিও ইনস্টলেশন, ভাস্কর্য এবং আগুনের সাক্ষী কর্মীদের রেকর্ডেড সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই উপাদানগুলো একসঙ্গে দর্শকদেরকে ঘটনার বাস্তবতা ও মানবিক দিক থেকে উপলব্ধি করিয়ে দেয়। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে ১ টা এবং বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্পাদকীয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংবাদমালিক সমিতি, মিডিয়া পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজ্জাদ শারিফ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিভাজন শেষ করার আহ্বান জানান। তিনি সংবাদমাধ্যমের মন্ত্র “সত্য হল সাহস” উল্লেখ করে, সঠিক তথ্য সরবরাহই সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। অতীতের দুই‑তিন দশক ধরে চলমান বিভাজনকে অতিক্রম করে, সকল সাংবাদিক ও মিডিয়া সংস্থার প্রতি সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মতিউর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনা দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম, জয়জয়দিন এবং আমর দেশসহ অন্যান্য প্রকাশনাও সমানভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রকাশনা, তাদের মতবাদ বা বিশ্বাস যাই হোক না কেন, যদি তারা আক্রমণ বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে প্রথম আলো ও সমগ্র সাংবাদিক সমাজ তাদের পাশে থাকবে।
প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র শিল্পের একটি উপস্থাপনা নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আগুনে পুড়া সামগ্রীকে পুনরায় সৃজনশীল রূপে উপস্থাপন করে, এটি প্রকাশনা সংস্থাগুলোর পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যের আহ্বান জানায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে সংবাদমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, শিল্পের মাধ্যমে ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরায় গঠন করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করবে।
প্রদর্শনীটি শেষ হওয়ার আগে, দর্শকদেরকে নিরাপদে প্রবেশের ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘আলো’ শিল্পপ্রদর্শনী প্রথম আলোর আগুনে ধ্বংসপ্রাপ্ত অফিসের পুনর্জাগরণকে চিত্রিত করে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মানবিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে স্থান পাবে। এটি সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও ঐক্যের বার্তা বহন করে, যা সকল পাঠক ও দর্শকের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।



