শফিকুল আলম, যিনি এক বছর অর্ধেক সময়ের জন্য অস্থায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সম্প্রতি ইংরেজি ভাষার নতুন দৈনিক ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’‑এর সম্পাদক পদে যোগদান করেছেন। তিনি এই তথ্যটি ফেসবুকে নিশ্চিত পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন এবং পাঠকদের শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করেছেন।
‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’ ইতিমধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং প্রকাশনা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিতে রয়েছে। মালিকানা কাঠামো সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে শফিকুল আলম মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের নিজে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা মিডিয়া স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রাক্তন ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও একই সময়ে এই দৈনিকের এক্সিকিউটিভ এডিটর হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, বহু বিকল্পের মধ্যে থেকে সত্য ও পেশাদার নৈতিকতার প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নতুন দায়িত্বের জন্য সমর্থন ও শুভেচ্ছা প্রত্যাশা করেছেন।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি দৈনিকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনও সীমিত সংখ্যক প্রকাশনা রয়েছে, যেখানে অধিকাংশ পাঠক বাংলা ভাষার সংবাদপত্রকে অগ্রাধিকার দেন। তবে উচ্চশিক্ষিত ও ব্যবসায়িক শ্রেণীর মধ্যে ইংরেজি সংবাদপত্রের চাহিদা ক্রমবর্ধমান, বিশেষত আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও নীতি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য। ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’ এই সেগমেন্টে প্রবেশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করতে পারে।
শফিকুল আলমের মতো অভিজ্ঞ মিডিয়া পেশাদারদের ফিরে আসা নতুন প্রকাশনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পূর্ববর্তী সরকারি দায়িত্ব এবং মিডিয়া নেটওয়ার্কের ব্যবহার করে দৈনিকটি দ্রুত পাঠকসংখ্যা বাড়াতে পারে, যা বিজ্ঞাপন আয় ও সাবস্ক্রিপশন মডেলের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
অন্যদিকে, একই সময়ে আজাদ মজুমদারের যোগদান সম্পাদনা দলকে শক্তিশালী করবে এবং বিষয়বস্তুর গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করবে। দুজনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে গভীরতা যোগাবে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পাঠকদের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে।
মিডিয়া বাজারে নতুন প্রবেশকারী হিসেবে ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’কে মুখোমুখি হতে হবে বিদ্যমান ইংরেজি দৈনিকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা, যেমন ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ও ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’। এই প্রকাশনাগুলো ইতিমধ্যে বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য স্থিতিশীল চ্যানেল গড়ে তুলেছে, তাই নতুন দৈনিককে পার্থক্য গড়ে তুলতে হবে অনন্য কন্টেন্ট, দ্রুত সংবাদ সরবরাহ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী উপস্থিতি দিয়ে।
ডিজিটাল মিডিয়ার উত্থান এবং মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সাবস্ক্রিপশন মডেলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’ যদি তার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, তবে বিজ্ঞাপন আয় ছাড়াও ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন প্রকাশনার জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ, কর্মী নিয়োগ ও প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলা উল্লেখযোগ্য ব্যয়সাপেক্ষ। তবে যদি বাজারে দ্রুত স্বীকৃতি পায়, তবে বিজ্ঞাপনদাতারা বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উচ্চমূল্যের বিজ্ঞাপন প্যাকেজের চাহিদা তৈরি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুল আলম ও আজাদ মজুমদারের নেতৃত্বে ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’ বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্রের বাজারে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। তাদের পেশাদারিত্ব ও নেটওয়ার্কের ব্যবহার করে দৈনিকটি ব্যবসা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করতে সক্ষম হবে, যা উচ্চমানের পাঠকবর্গকে আকৃষ্ট করবে।
কিন্তু ঝুঁকিও অবহেলা করা যায় না। মিডিয়া শিল্পে রাজস্বের মূলধারার পরিবর্তন, বিজ্ঞাপন বাজেটের অনিশ্চয়তা এবং পাঠকের মনোভাবের দ্রুত পরিবর্তন নতুন প্রকাশনার টেকসইতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই দৈনিকটি কৌশলগতভাবে বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন ও কন্টেন্ট মডেলকে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংক্ষেপে, শফিকুল আলমের সম্পাদকীয় পদ গ্রহণ এবং আজাদ মজুমদারের এক্সিকিউটিভ এডিটর পদে যোগদান ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’কে মিডিয়া বাজারে একটি নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাদের অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক ও পেশাদার নীতি এই নতুন দৈনিককে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সংবাদ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখতে সহায়তা করবে, তবে বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রয়োজন।



