জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুৎ ওজিল ২০২৬ সালের মঙ্গলবার বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পুত্র বিলাল এরদোয়ানের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। ওজিলের সফরের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় মানবিক প্রকল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা।
ঢাকায় অবতরণের পর ওজিল এবং বিলাল দুজনেই সরাসরি হোটেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের স্বাগত জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এই সফরে ওজিলের প্রথম গন্তব্য হিসেবে শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন নির্ধারিত হয়েছে।
অধিকন্তু, ওজিল আগামীকাল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে গিয়ে শরণার্থীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন। এই ধারাবাহিকতা তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা) এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সমন্বয়ে পরিকল্পিত।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় এবং টিকা যৌথভাবে ওজিলের সফরের সব ধাপ সমন্বয় করছেন। দু’টি সংস্থা একসাথে ভ্রমণসূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সফর দেশীয় মানবিক কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।
টিকার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নয়টি স্কুলের মধ্যে অন্তত একটি স্কুলে প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করবে বলে জানানো হয়েছে। এই স্কুলগুলোতে তুর্কি তহবিলের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কাজ চলছে। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ওজিলের উপস্থিতি শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের নতুন প্রকল্পের উদ্বোধনের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রকল্পটি টিকার তহবিলের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং হাসপাতালের আধুনিকায়ন লক্ষ্য রাখে। ওজিলের উপস্থিতি স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী ও রোগীদের জন্য উৎসাহের স্রোত সৃষ্টি করেছে।
শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টার টিকার সহায়তায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালের নতুন বিভাগ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং রোগী সেবার মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তহবিল এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে।
টিকার তহবিলের এই পরিমাণ দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। তুর্কি সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা গড়ে তোলা। তুর্কি ও বাংলাদেশী সংস্থার সমন্বয়ে এই ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওজিলের সফর শুধুমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের ভ্রমণ নয়, বরং মানবিক ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি মঞ্চ। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মেসুৎ ওজিলের বাংলাদেশ সফর তুর্কি সহযোগিতা, শরণার্থী সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুমুখী উদ্যোগের অংশ। তার পরবর্তী দিন রোহিঙ্গা শিবিরে ভ্রমণ দেশের মানবিক দায়িত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে দৃঢ় করবে।



