শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী আনা হোসেন মিলন, শপথের পরপরই বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে শিক্ষা নীতির দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন। তিনি উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ‘হাই জাম্প’ নয়, ‘পোল ভল্ট জাম্প’ দরকার।
মিলন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয় এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেই শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হয়, যা তিনি ‘বড় জাম্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্বের নকল প্রতিরোধের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলেও সেগুলো পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
মন্ত্রীর মতে, গ্লোবাল ভিলেজের যুগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরনো পদ্ধতিতে আটকে থাকলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবে। তাই তিনি ‘পোল ভল্ট জাম্প’ শব্দটি ব্যবহার করে শিক্ষা খাতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আরও জানান, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সমান স্তরে প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্রমে সম্পূর্ণ নতুন পরিবর্তনের বদলে একটি বিস্তৃত রিভিউ চালাবে। রিভিউ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত সংগ্রহ করা হবে, তবে নতুন কোনো কারিকুলাম প্রস্তাব না করে বিদ্যমান কাঠামোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রিভিউয়ের ফলাফল ভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রোগ্রাম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষা নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সমস্যার সমাধান অব্যাহত থাকবে। তিনি অতীতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা তুলে ধরে বললেন, সেসব ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে না, বরং নতুন প্রযুক্তি ও তদারকি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
শিক্ষা খাতে ‘পোল ভল্ট জাম্প’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চান, তা স্পষ্ট করতে তিনি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা, পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল টুলের সংযোজন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আধুনিক মানে উন্নীত করা এই ‘পোল ভল্ট জাম্প’এর মূল দিক।
মন্ত্রীর শেষ মন্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষা নীতি ও কারিকুলাম রিভিউ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সমাজের সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন, আর এই সহযোগিতাই ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদকে শক্তিশালী করবে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন বর্তমান রিভিউ প্রক্রিয়া শিক্ষার গুণগত মানে যথেষ্ট পরিবর্তন আনবে, নাকি আরও মৌলিক সংস্কার দরকার? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



