29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিযুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে মানবসম্পদ ও সরবরাহের সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে মানবসম্পদ ও সরবরাহের সংকট

পেন্টাগন বর্তমানে দুইটি উচ্চপ্রোফাইল যুদ্ধবিমান প্রকল্প—F‑47 এবং F/A‑XX—একসাথে চালু করেছে। উভয় প্রকল্পই ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, তবে মানবসম্পদ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা প্রকল্পের অগ্রগতিকে কঠিন করে তুলছে।

এই দুই প্রোগ্রাম একসাথে পরিচালনা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষস্থানীয় তিনটি সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। লকহিড মার্টিন, বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যান বর্তমানে এই ক্ষেত্রের প্রধান নির্মাতা হিসেবে বিবেচিত, তবে তাদের কার্যক্ষমতা এখন সীমিত।

লকহিড মার্টিন এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তবে বোয়িং সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি-সংক্রান্ত ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে, যা তার আর্থিক ও উৎপাদন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। নর্থরপ গ্রুম্যানের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো সক্রিয় ফাইটার উৎপাদন লাইন নেই, ফলে ষষ্ঠ প্রজন্মের জটিল প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তার পোর্টফোলিওতে সীমিত।

শিল্পের এই কেন্দ্রীভবন একদিকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে মানবসম্পদ সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার কেবল পুরোনো মডেলের আপডেট নয়; এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন এবং সমন্বিত যোদ্ধা বিমান (কোলাবোরেটিভ কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ধরনের সিস্টেমের জন্য উচ্চমানের প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং ডেটা বিজ্ঞানীর বিশাল দল প্রয়োজন, যা বর্তমানে মার্কিন শ্রমবাজারে খুব কমই পাওয়া যায়। বিশেষ করে AI অ্যালগরিদম, সাইবার নিরাপত্তা এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ফিউশন ক্ষেত্রে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী সীমিত।

বয়স বাড়া কর্মশক্তি আরেকটি বড় বাধা। ১৯০০-এর দশকের শেষের দিকে কর্মজীবন শুরু করা অনেক অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও মেকানিক ইতিমধ্যে অবসরে চলে গেছেন, ফলে জ্ঞান স্থানান্তরের ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের তরুণরা সিলিকন ভ্যালি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রযুক্তি খাতে বেশি আকৃষ্ট, ফলে প্রতিরক্ষা শিল্পে নিয়োগের হার কমে যাচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে, উচ্চ নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নতুন কর্মীকে দ্রুত কাজে লাগাতে বাধা সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা অনুমোদন পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, আর প্রশিক্ষণ কোর্সের সময়সীমা প্রায় এক বছর, যা উৎপাদন চক্রকে ধীর করে দেয়।

এই সব কারণ মিলিয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার প্রকল্পের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি মানবসম্পদ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘাটতি পূরণে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য, যাতে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—উন্নত এয়ারসুপ্রিমেসি এবং নেটওয়ার্কেড যুদ্ধ ক্ষমতা—সফলভাবে অর্জন করা যায়।

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে বায়ু-সামরিক কৌশলের ভিত্তি গড়ে তুলবে, কারণ এতে স্বয়ংক্রিয় মিশন, রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিং এবং মানব-যন্ত্র সমন্বিত যুদ্ধের নতুন মডেল অন্তর্ভুক্ত। সফল হলে এই প্রযুক্তি পরবর্তী দশকে বাণিজ্যিক এভিয়েশন, রিমোট সেন্সিং এবং জরুরি সেবা ক্ষেত্রেও প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার প্রকল্প প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগামী হলেও, মানবসম্পদ ও সরবরাহের সংকট তার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্পের কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করা, নতুন প্রতিভা আকৃষ্ট করা এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ বায়ু-সামরিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments