29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যসৌদি থেকে ফেরত আসা রিজিয়া বেগমের পরিচয় ও পরিবার সন্ধানের আবেদন

সৌদি থেকে ফেরত আসা রিজিয়া বেগমের পরিচয় ও পরিবার সন্ধানের আবেদন

একজন নারী, যাকে রিজিয়া বেগম নামে পরিচিত করা হচ্ছে, ছয় দিন আগে সৌদি আরব থেকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে এসেছেন, তবে তার নিজের ঠিকানা, পরিবারের ফোন নম্বর বা কোনো পরিচিত তথ্য স্মরণে আসছে না। তিনি নিজেকে মুসলিম ও সৌদি শব্দ ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় দিতে পারছেন না।

রিজিয়া বেগম ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪:৪৫ টায় সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মুহূর্তে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অস্থির দেখা যায়; তিনি ঘোরাঘুরি ও বিভ্রান্তির লক্ষণ দেখাচ্ছিলেন।

ব্র্যাক (বাংলাদেশ রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটি) জানিয়েছে, রিজিয়া বেগমকে অবিলম্বে মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেন্টারের সহকারী পরিচালক, মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বে থাকা শরিফুল হাসান, উল্লেখ করেন যে, রিজিয়া বেগমের বর্তমান অবস্থায় তিনি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে আছেন।

সেন্টারে রিজিয়া বেগমের সঙ্গে মনোসামাজিক কাউন্সেলর এবং প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তাদের লক্ষ্য হল রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তার স্মৃতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন, জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, রিজিয়া বেগমের পরিচয় বা তার পরিবারের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে ০১৭১২-১৯৭৮৫৪ নম্বরে জানাতে। এই তথ্যের মাধ্যমে তার পরিবারকে দ্রুত পুনর্মিলন করা সম্ভব হতে পারে।

মেমরি লস বা স্মৃতি হারানোর ঘটনা দীর্ঘ উড়ান, জেট ল্যাগ, মানসিক চাপ বা শারীরিক আঘাতের ফলে ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুমের ঘাটতি, ডিহাইড্রেশন এবং অপ্রতুল পুষ্টি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাসের কারণ হতে পারে, যা অস্থায়ী স্মৃতিভ্রংশের দিকে নিয়ে যায়।

সৌদি থেকে ফিরে আসা যাত্রীর ক্ষেত্রে, দীর্ঘ ফ্লাইটের সময় দেহে হাইড্রেশন কমে যাওয়া, সিটের সীমিত জায়গা এবং সময় পার্থক্যের কারণে শারীরিক ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের চাপের ফলে মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসে অস্থায়ী পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা স্মৃতির সংরক্ষণে প্রভাব ফেলে।

যদি কেউ একই রকম লক্ষণ অনুভব করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ধাপ হিসেবে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের গ্লুকোজ ও ইলেক্ট্রোলাইট স্তর যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও কগনিটিভ থেরাপি গ্রহণ করা উপকারী হতে পারে।

ব্র্যাকের কর্মীরা রিজিয়া বেগমের স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করেছে। তারা আশা করছেন, যথাযথ চিকিৎসা ও মনোযোগের মাধ্যমে রোগীর স্মৃতি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে এবং পরিবারকে পুনরায় যুক্ত করা যাবে।

আপনার কাছেও যদি রিজিয়া বেগমের পরিচয় বা তার পরিবারের কোনো তথ্য থাকে, অনুগ্রহ করে উপরে উল্লেখিত নম্বরে যোগাযোগ করুন। আপনার সহযোগিতা রিজিয়া বেগমের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments