নতুন শিক্ষা মন্ত্রী আনাম-ই-হোসেনুল হক আজ প্রথম কাজের দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা খাতে কেবল উচ্চ লাফ নয়, ধারাবাহিক উন্নতি প্রয়োজন বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি শপথ গ্রহণের পর একটি ছোট প্রতিবন্ধক লাফিয়ে পার হওয়ার উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও গতি বাড়ানোর কথা বলেছিলেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমান শিক্ষাক্রমে মৌলিক পরিবর্তন না করে, তবে বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হবে। এই পর্যালোচনায় পাঠ্যবই, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।
শপথ অনুষ্ঠানকালে নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন এবং মন্ত্রীর পরিকল্পনা সম্পর্কে সমর্থন প্রকাশ করেন। উভয় মন্ত্রী একসাথে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রিসভার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ নেন।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদে তারেক রহমান অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং তিনি দুই ঘণ্টা পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এই ভাষণে নতুন সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
শিক্ষা মন্ত্রীর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য কেবল একক বড় পরিবর্তন নয়, বরং ধারাবাহিক ছোট ছোট উন্নতি প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।
পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে নীতি গঠনে সকল স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল টুলের ব্যবহার বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও বিস্তারের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।
বিএনপির নতুন সরকার গঠনকালে, শিক্ষা মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখের উপস্থিতি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন শক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে। এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার কাঠামোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রীর উল্লেখিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সময়সীমা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষা নীতির ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত সম্পদ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে। এতে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: শিক্ষার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি নিশ্চিত করতে বাড়িতে নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করুন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখুন। আপনার মতামত ও প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় শেয়ার করা যেতে পারে।



