রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (রুয়েট) সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং আটজনকে শাস্তি প্রদান করেছে। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল সামাজিক মাধ্যমে একটি নারী শিক্ষার্থীর প্রতি যৌন হয়রানি।
তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন রুয়েট শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব, অধ্যাপক ড. মো. রোবিয়ুল ইসলাম সরকার। তিনি জানিয়েছেন, কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যা যৌন হয়রানির দিকটি নিশ্চিত করেছে। এ ভিত্তিতে শৃঙ্খলা বিধি-৬ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম সুমন মজুমদার, যিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরাসরি হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে রুয়েটের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্য আটজন শিক্ষার্থীরও শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে। তদের মধ্যে তিনজনকে সহায়তা ও সমর্থনের অভিযোগে তিন বছর পর্যন্ত একাডেমিক সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে উস্কানিমূলক কাজের অভিযোগে এক বছর সাসপেনশন করা হয়েছে। শাসনকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট হোস্টেল থেকে বহিষ্কৃত এবং তাদের জন্য চরিত্র সনদ ইস্যু করা হবে না।
শিক্ষার্থী কল্যাণ বিভাগের পরিচালক, অধ্যাপক ড. রোবিয়ুল ইসলাম সরকার জোর দিয়ে বলেছেন, ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেছেন, অভিযোগ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি গম্ভীরভাবে নেওয়া হয় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, রুয়েটের নীতি হল নারী শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি সহ্য না করা। এই নীতি অনুসারে, ভবিষ্যতে অনুরূপ কোনো ঘটনা ঘটলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠানো হয়েছে—ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো অনুচিত আচরণ তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করতে হবে।
আপনার ক্যাম্পাসে যদি অনুরূপ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই ধরনের শাস্তি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করবে এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
আপনার মতামত কী? ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি কী ধরনের উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন করবেন?



