বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৫ প্রকাশিত ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট অনুযায়ী, গৃহস্থালি উচ্চমূল্যের জমা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গত বছর তুলনায় প্রায় আট শতাংশ বাড়েছে। এই বৃদ্ধি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় গৃহস্থালির ভূমিকা তুলে ধরে।
১ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যে জমা থাকা গৃহস্থালি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৪,২৫৮ থেকে বেড়ে ৩৬,৯৩২ হয়েছে। এই পরিবর্তন গৃহস্থালি সঞ্চয়ের শক্তি এবং ব্যাংকিং সেক্টরের গৃহস্থালি অংশের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে।
একই সময়ে, এই উচ্চমূল্য অ্যাকাউন্টগুলোর মোট জমা পরিমাণ ৮০,২০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যদিও শতাংশে বড় পরিবর্তন নয়, তবু পরিমাণের বৃদ্ধি সঞ্চয়ের ধারাবাহিক প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়।
গৃহস্থালি জমা অ্যাকাউন্টের মোট সংখ্যা ১৪.২ কোটি থেকে বেড়ে ১৫.৯ কোটি হয়েছে, যা ১১.৪ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি। এই সংখ্যা দেশের সঞ্চয় সংস্কৃতির বিস্তৃত প্রসারকে প্রতিফলিত করে।
মোট গৃহস্থালি জমার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জুন ২০২৫-এ ১১.০৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে গত বছরের সমমানের পরিমাণ ৯.৯৩ লাখ কোটি টাকা ছিল। এই বৃদ্ধির পেছনে গৃহস্থালি সঞ্চয়ের ধারাবাহিকতা এবং মধ্যম স্তরের সঞ্চয়কারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
প্রাইভেট সেক্টরের জমা মোট জমার ৮৩ শতাংশ গঠন করে, যার মধ্যে গৃহস্থালি জমা এককভাবে ৫৫ শতাংশ দখল করে। বাকি ২৮ শতাংশ কর্পোরেট ও আর্থিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান থেকে, আর পাবলিক সেক্টর ১৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ। এই কাঠামো গৃহস্থালি সঞ্চয়ের প্রাধান্যকে স্পষ্ট করে।
২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে জমা থাকা অ্যাকাউন্টের মোট পরিমাণ ৫.২২ লাখ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬.০৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই স্তরের সঞ্চয় গৃহস্থালি ও মাঝারি আয়ের গ্রাহকদের আর্থিক সক্রিয়তা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, ২ লাখ টাকার নিচের ছোট মূল্যের অ্যাকাউন্টের মোট জমা ১৩.৩ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৪.৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ছোট মূল্যের সঞ্চয় বৃদ্ধি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিস্তৃততা প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, এই পরিসংখ্যান গৃহস্থালি ও মাঝারি স্তরের সঞ্চয়কারীদের দ্বারা চালিত পরিমাণগত ও গুণগত উভয় দিকের বৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে। রিটেইল সেভার এবং মধ্যম স্তরের সঞ্চয়কারীরা ব্যাংকিং সিস্টেমের তরলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ডেটা দেখায় যে, জমা অধিকাংশই ছোট মূল্যের অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীভূত, যা দেশের বিস্তৃত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নির্দেশ করে। গৃহস্থালি সঞ্চয়ের এই বিস্তৃত বণ্টন ব্যাংকিং সেক্টরের ঝুঁকি প্রশমনেও সহায়তা করে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, গৃহস্থালি সঞ্চয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ব্যাংকিং লিকুইডিটি শক্তিশালী করতে পারে, তবে ছোট মূল্যের অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নির্ভরতা হঠাৎ প্রত্যাহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ব্যাংকগুলোকে সঞ্চয়কারীর আচরণ পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, গৃহস্থালি সঞ্চয়ের প্রবণতা স্থিতিশীল থাকলে ব্যাংকিং সেক্টরের ভিত্তি মজবুত হবে, তবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সঞ্চয় কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষার জন্য নীতিনির্ধারকদের সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন।



