বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নতুন সরকারের শপথের দিন, মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তার ইচ্ছা অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর করা হয়েছে।
প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে তার নিজের ইচ্ছা অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের তারিখ ও সময়ের উল্লেখের মাধ্যমে সরকারী সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন প্রথমে এপ্রিল ২০২২-এ বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২৬ আগস্ট ২০২২-এ তাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তার এই দুই মাসের মধ্যে তিনি একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছিলেন।
একই সময়ে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে ছিলেন, যা সরকারী নীতি ও বেসামরিক সংস্থার নেতৃত্বে দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি সরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ স্বার্থসংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
শেখ বশিরউদ্দীনের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নতুন পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে, তিনি পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, আর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জার্মানিতে কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন। এই পরিবর্তনগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালন কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে আসে।
এই সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের আলোচনায় জড়িত ছিল। বোয়িং থেকে নতুন জেট ক্রয়ের পরিকল্পনা সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে বিবেচিত। নতুন পরিচালকরা এই আলোচনায় তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন।
চেয়ারম্যানের পরিবর্তনটি সংস্থার আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণ হ্রাসের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। শীর্ষ নেতৃত্বের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা ও লিজিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি আলোচনায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শেয়ার মূল্যের সাম্প্রতিক প্রবণতা ইতিমধ্যে নেতিবাচক দিক দেখিয়েছে, এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন অতিরিক্ত অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তবে নতুন পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার অন্তর্ভুক্তি, বোয়িং ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করতে শীর্ষ ব্যবস্থাপনা স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। নতুন চেয়ারম্যানের অভাবের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হতে পারে, যা উড়োজাহাজ ডেলিভারির সময়সূচি ও রুট সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে, শেখ বশিরউদ্দীনকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন, যা সংস্থার পুনর্গঠন, বিমান ক্রয় ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। নতুন পরিচালক দলের অভিজ্ঞতা ও সরকারী সমর্থন সংস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। তবে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা না থাকলে স্বল্পমেয়াদে বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, যা বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করবে।



