স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী সাদার মদ সাখাওয়াত হুসেইন আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের অফিসে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট করে জানান যে, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রীর মতে, ডাক্তারদের দেরি বা অনুপস্থিতি রোগীর সেবা মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই তিনি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক। তিনি জানান, তিনি অনিয়মিতভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং যদি কোনো ডাক্তার সময়মতো উপস্থিত না থাকে, তবে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের ত্বরিত পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সাখাওয়াত হুসেইন মন্ত্রিত্বের আরেকটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে মন্ত্রণালয়ের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কোনো ধরনের সিংহদ্বার বা গ্যাংস্টার গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং দুর্নীতির সব রূপকে নির্মূল করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি অনুসারে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে নৈতিক মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে গ্রামীণ এলাকায় সেবা পৌঁছানোর জন্য নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ জনগণের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং বিদ্যমান সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো হবে। এভাবে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার পার্থক্য কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি নিজে এবং তার পরিবার বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের দিকে ঝুঁকবে না, যদি না তা সম্পূর্ণভাবে অপরিহার্য হয়। দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে রোগীদের বিদেশি চিকিৎসা কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে, এটাই তার লক্ষ্য।
শিক্ষা ও রাজনৈতিক পটভূমি সম্পর্কে মন্ত্রীর তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং নারাসিংদি-৪ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণের রাজ্য মন্ত্রী এম এ মুহিতও উপস্থিত ছিলেন। দুজন মন্ত্রী একসাথে মন্ত্রণালয়ের নতুন দিকনির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কর্মশক্তি শক্তিশালীকরণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর স্বাস্থ্য সেক্টরে কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বেশ কিছু হাসপাতাল প্রশাসক ইতিমধ্যে মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে ত্রিশ দিনের মধ্যে উপস্থিতি রেকর্ডিং সিস্টেম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে, রোগীর অধিকার রক্ষার জন্য স্বচ্ছতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, সাখাওয়াত হুসেইনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং রোগমুখী করে তোলার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং রোগীর সেবায় কী ধরনের উন্নতি আনা সম্ভব হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন এই পদক্ষেপগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে যথেষ্ট হবে?



