শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের সভাকক্ষে বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নকল ও প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বে দায়িত্ব পালনকালে এই সমস্যার মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এখনও তদনুযায়ী কঠোর তদারকি বজায় থাকবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পুনরায় সক্রিয় করা হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, এখন আরও শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য ব্যাকডেটেড পদ্ধতিগুলোকে বাদ দিয়ে নতুন দিকনির্দেশনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। শিক্ষার সব স্তরে অনলাইন সেবা ও ই-লার্নিং টুলের ব্যবহার বাড়িয়ে, কাগজের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নকলের সুযোগ সীমিত করা হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বিকাশের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ মডেল চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের কোডিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল টুলের ব্যবহার শেখাতে বিশেষ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে, আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে। বিষয়বস্তু আপডেট, আন্তঃবিষয়ক সংযোগ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে পাঠ্যক্রমের কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।
এই ঘোষণার সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন এবং মন্ত্রীর পরিকল্পনা সমর্থন প্রকাশ করেন। উভয় মন্ত্রীই একমত যে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষার সময় ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক মনিটরিং এবং র্যান্ডম চেকের মাধ্যমে নকলের সম্ভাবনা হ্রাস করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো মানে হবে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। নকলের ঝুঁকি কমে আসলে, তাদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ বাড়বে।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তাই, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নতুন দক্ষতা অর্জন করুন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ্ধতি গড়ে তুলুন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে নকল ও প্রশ্নফাঁসের শূন্যতা নিশ্চিত করা এবং দেশের শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এই পদক্ষেপগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



