32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে চান

নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে চান

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রথম অফিসে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থনীতির সুফল সর্বজনীন করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চলা অর্থনীতিকে বদলে, সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

অধিকাংশের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবনতি পর্যায়ে পৌঁছেছে; তাই প্রথম কাজ হবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার। চৌধুরী বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা ছাড়া কোনো বৃহৎ পরিকল্পনা কার্যকর হবে না, এটাই তার অগ্রাধিকারের শীর্ষে।

তিনি আরও জোর দেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে এবং পৃষ্ঠপোষকতার প্রভাবকে নির্মূল করতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক নীতিগুলোকে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে প্রত্যেকের সমান অধিকার থাকে, তা ব্যবসা হোক বা বিনিয়োগ।

চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের শিকলে পৌঁছে গেছে, যা মূলত পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির ফল। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবস্থা বদলাতে সিরিয়াস ডিরেগুলেশন, লিবারালাইজেশন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন অপরিহার্য।

অর্থনৈতিক সংস্কারের এই দিকটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে এসেছে। বিরোধী দলগুলোও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মুক্ত বাজারের পক্ষে মত পোষণ করেছে। তবে তারা চূড়ান্ত নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।

চৌধুরী উল্লেখ করেন, পেশাদারিত্বের অভাবের ফলে সরকারী প্রকল্পগুলো প্রত্যাশিত ফল না দিতে পারছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে পুনর্গঠন করা হবে, যা বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি করবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে, তিনি বলছেন, বর্তমান বিধি-বিধানগুলোকে সরলীকরণ করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া বাদ দেওয়া হবে। এতে করে নতুন উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রবেশের বাধা কমে যাবে।

ডিরেগুলেশন প্রক্রিয়ায়, সরকারী সংস্থাগুলোর স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। চৌধুরী বলেন, এভাবে নীতি নির্ধারণে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে গঠিত অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশ সরকারকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, চৌধুরী বলছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই সংস্কারগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করা হয়, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বাস্তবায়নের পথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সামাজিক সমর্থন অপরিহার্য হবে।

অর্থমন্ত্রী চৌধুরীর এই ঘোষণার পর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি শেষ করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকটি সবার জন্য সমানভাবে ভাগ করা হবে, আর পৃষ্ঠপোষকতা আর কোনো বিকল্প হবে না।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments