পেরুর কংগ্রেস ১৩ই ফেব্রুয়ারি হোসে হেরিকে, যিনি মাত্র চার মাসের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, গোপন চীন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। হেরি, ৩৯ বছর বয়সী, লিমা শহরে দুইটি গোপন সাক্ষাৎকারের পরে এই পদত্যাগের মুখোমুখি হয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অষ্টমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়।
কংগ্রেসের ১৩০ সদস্যের মধ্যে ৭৫ জন হেরির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর ২৪ জন বিরোধিতা করেন। বাকি সদস্যদের অনুপস্থিতি বা অনির্ধারিত ভোটের ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয় এবং হেরি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের পরই হেরি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের নোটিশ প্রদান করেন, যদিও তার মেয়াদ শেষের দুই মাস আগে জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল।
হেরি কিভাবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তা রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত। অক্টোবর মাসে কংগ্রেস তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের ওপর অবিশ্বাসের ভোট দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বোলুয়ার্তের কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকায়, হেরি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারের প্রথম স্থানে ছিলেন এবং তাই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে বোলুয়ার্তের সমর্থনকারী ডানপন্থী দলগুলো অপরাধ ও দুর্নীতির বাড়তে থাকা অভিযোগের মুখে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে, যা হেরির অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়।
গোপন বৈঠকের প্রথম সাক্ষাৎকারটি ২৬ ডিসেম্বর লিমার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৬ জানুয়ারি একই শহরের একটি চীনা পণ্যদোকানে দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ হয়। উভয়ই কোনো সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল লগবুকে নথিভুক্ত হয়নি। এই বৈঠকগুলো সম্পর্কে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী বিশাল আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বৈঠকের অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াং, যিনি চীন সরকারের অনুমোদিত একাধিক কোম্পানির মালিক, লিমায় বেশ কয়েকটি চীনা পণ্যের দোকান ও রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন এবং দেশের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশীদারিত্বও রয়েছে। ইয়াং তার কিছু কোম্পানির জন্য রাষ্ট্রের বিশেষ ছাড়ও পেয়েছেন, যা তার ব্যবসায়িক প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলেছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের পর থেকে এই ঘটনা “চিফা-গেট” নামে পরিচিত হয়েছে। নামটি পেরুর জনপ্রিয় চীনা-প্রভাবিত খাবার চিফা থেকে নেওয়া, যা ঘটনাটির গোপনীয়তা ও অস্বাভাবিকতা তুলে ধরে। মিডিয়ার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই গোপন বৈঠকগুলো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং জনমতকে উস্কে দিয়েছে।
পেরুর অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তর দ্রুতই হেরির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের মূল বিষয় হল বৈঠকের সময় কোনো অবৈধ সুবিধা বা লঙ্ঘন ঘটেছে কিনা, এবং হেরি ও ইয়াংয়ের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ আছে কিনা।
হেরি এই অভিযোগের মুখে বৈঠকের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং তার পরিচালনার পদ্ধতির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন যে বৈঠকগুলো “পরিস্থিতিগত” ছিল এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা চাওয়া হয়নি। হেরি ইয়াংয়ের কাছ থেকে কোনো অনুরোধ বা সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হেরির পদত্যাগের ফলে পেরুর রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুনর্গঠনের পথে রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে নতুন প্রার্থী ও দলগুলোকে দ্রুতই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে, আর কংগ্রেসের ক্ষমতাচ্যুতকরণ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের তদারকি সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলবে। এই পরিবর্তনটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের গঠন ও নীতি নির্ধারণে অনিশ্চয়তা বয়ে আনতে পারে।



