শফিকুল আলম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন যে তিনি নতুন ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’তে সম্পাদক পদ গ্রহণ করেছেন। প্রেস সচিবের দায়িত্ব শেষ করে তিনি পুনরায় সাংবাদিকতার পথে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাঠকদের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের পর প্রেস উইংয়ের দাপ্তরিক কাজ শেষ করে, ফলে শফিকুল আলমের অফিসিয়াল দায়িত্বও সমাপ্ত হয়। শপথের পরপরই তিনি মিডিয়ার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, নতুন পেশাগত দিকনির্দেশনা গ্রহণের প্রস্তুতি নেন।
প্রেস উইংয়ের সদস্যদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে। সেখানে শফিকুল আলম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করছেন। এই প্রকাশনা তার ক্যারিয়ারের মূল দিকের প্রতি অবিচল আগ্রহকে তুলে ধরে।
শফিকুল আলমের পাশাপাশি উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও একই রকম প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। দুজনেই জানিয়েছেন যে, সরকারী দায়িত্ব শেষ হলে তারা পেশাগত সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত মিডিয়া ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ পেশাদারদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
ফয়েজ আহম্মদ জানান যে, তিনি নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত বর্তমান দায়িত্ব পালন করবেন এবং এরপর নতুন চাকরির সন্ধানে থাকবেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারী দায়িত্বের পর তিনি স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার কাজ চালিয়ে যাবেন। এই পরিকল্পনা তার ক্যারিয়ারকে স্বতন্ত্রভাবে গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান যে, তিনি পূর্বে সাংবাদিকতা করেছেন এবং শীঘ্রই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তিথি উল্লেখ করেন যে, কিছু সময়ের বিরতি নিয়ে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেবেন। তার এই পরিকল্পনা তার পেশাগত উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষাগত অগ্রগতিকে সমন্বয় করার লক্ষ্যে।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, যদিও ব্রিফিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন, তবে সহকর্মীদের মাধ্যমে জানান যে তিনি পেশাদার সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তার এই মন্তব্যও প্রেস উইংয়ের সদস্যদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি অবিচল আগ্রহের প্রমাণ দেয়।
প্রেস উইংয়ের এই চারজন সদস্য নিয়মিতভাবে প্রেস ব্রিফিং পরিচালনা করে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা মিডিয়াকে জানাতেন। তাদের দায়িত্ব ছিল সরকারী তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনমতকে সঠিকভাবে গঠন করা। এই অভিজ্ঞতা এখন তাদের নতুন পেশাগত দায়িত্বে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শফিকুল আলমের ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’তে সম্পাদক পদ গ্রহণকে সাংবাদিক মহলে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। তার প্রধান উপদেষ্টার মুখপাত্র হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা নতুন দৈনিকের সম্পাদকীয় দিকনির্দেশনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সাংবাদিকতায় ফেরার সিদ্ধান্তকে পেশাদারিত্বের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারী দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে এসে তারা মিডিয়ার স্বতন্ত্রতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে চান। এই প্রবণতা দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রেস উইংয়ের অভিজ্ঞ পেশাদারদের মিডিয়ায় ফিরে আসা নতুন সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের উপর সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রদান করতে পারে। তাদের অভ্যন্তরীণ জ্ঞান ও যোগাযোগ দক্ষতা সংবাদ প্রতিবেদনকে সমৃদ্ধ করবে এবং জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলম এবং তার সহকর্মীরা এখন নতুন পেশাগত দায়িত্বে মনোনিবেশ করবেন, যেখানে তাদের সরকারী অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকতার দক্ষতা একত্রিত হয়ে দেশের গণমাধ্যমে অবদান রাখবে। তাদের প্রত্যাবর্তন মিডিয়া ক্ষেত্রের পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



