শফিকুল আলম এবং মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা নতুন ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি ওয়াদা’তে যথাক্রমে সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক পদে যোগদান করেছেন। উভয়েই পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন এবং এখন সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন।
শফিকুল আলম প্রায় এক বছর ও ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি সরকারী যোগাযোগ ও মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এখন তিনি এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে ফিরে আসছেন।
ফেসবুকে পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেছেন, তিনি ‘ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছেন। তিনি বলেন, পত্রিকাটির মূল লক্ষ্য হল ‘ভালো জার্নালিজম’ করা এবং সঠিক তথ্য প্রদান করা। এই নীতির ভিত্তিতে পত্রিকাটির নাম ‘ওয়াদা’ রাখা হয়েছে।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, যিনি পূর্বে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, একই পোস্টে জানান তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর উপ-প্রেস সচিবের পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার কাজের সময়কাল ছিল উত্তেজনা, চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যে পরিপূর্ণ, যা তাকে অমূল্য অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।
আজাদ মজুমদার তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, তিনি এখন ‘ডেইলি ওয়াদা’তে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করছেন এবং পেশাগত সততা ও নীতিমালা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি নতুন উদ্যোগে একই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
‘ওয়াদা’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে শফিকুল আলম ব্যাখ্যা করেছেন, এটি কোনো বিষয়ে অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পত্রিকাটির একমাত্র লক্ষ্য হল ‘ভালো জার্নালিজম’ করা এবং পাঠকদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করা। এই নীতি পত্রিকাটির সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে নতুন দৈনিকের প্রবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পদক্ষেপ। ‘ডেইলি ওয়াদা’ বাজারে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য ডেইলি স্টার’, ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ ইত্যাদি প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে সরকারী অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কের সুবিধা নিয়ে পত্রিকাটি ব্যবসা, অর্থনীতি ও নীতি সংক্রান্ত গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে বিজ্ঞাপনদাতাদের আকর্ষণ করতে পারে।
তবে বাজারের স্যাচুরেশন, ডিজিটাল মিডিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যায়। পত্রিকাটিকে টেকসই করতে সাবস্ক্রিপশন মডেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিশেষায়িত বিষয়বস্তুতে বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে পাঠকের বিশ্বাস অর্জনই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
অভিজ্ঞ সম্পাদকীয় দল এবং স্পষ্ট অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ‘ডেইলি ওয়াদা’ ইংরেজি ভাষাভাষী পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে একটি নতুন বিকল্প হিসেবে 자리 নিতে পারে। উভয় সম্পাদক পাঠকদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করে, এবং ভবিষ্যতে উচ্চমানের সাংবাদিকতা ও ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ প্রদান করার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।



