32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরিজার্ভ চুরির মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারিত, ৯৩ বার পেছানো

রিজার্ভ চুরির মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারিত, ৯৩ বার পেছানো

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে। মামলাটি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে স্বিফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হওয়ার পর থেকে চলমান।

প্রতিবেদন দাখিলের পূর্ব নির্ধারিত তারিখে সিআইডি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান উপস্থিত হতে পারেননি, ফলে আদালত দাখিলের সময়সীমা পিছিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানান, দেরির কারণ তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে ধারাবাহিক বিলম্ব।

চুরি হওয়া অর্থের মূল ঘটনা ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে ঘটেছিল। স্বিফট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জালিয়াতি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরিত তহবিল ফিলিপিন্সে পাঠানো হয় এবং সেখানকার স্থানীয় চক্রের সহায়তায় লন্ডার করা হয়।

চুরির পরপরই ১৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে ঢাকা শহরের মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা মামলাটি দায়ের করেন। তবে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়নি; মামলাটি মূলত আর্থিক লেনদেনের অবৈধতা ও তহবিলের গন্তব্য অনুসন্ধানের দিকে কেন্দ্রীভূত।

তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির ওপর দেওয়া হলেও, প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে ধারাবাহিক বিলম্ব দেখা যায়। আদালতে দাখিলের তারিখ ৯৩ বার পিছিয়ে যাওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি ধীরগতিতে চলেছে। প্রতিটি পেছানোর কারণ ভিন্ন, তবে মূলত তদন্তের জটিলতা এবং প্রমাণ সংগ্রহে সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়াই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তরিত হয়ে তিনটি ক্যাসিনোতে প্রবাহিত হয়। এই ক্যাসিনোগুলোর মধ্যে একটি ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে ১.৫ কোটি ডলার পুনরুদ্ধার করা যায়। ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে এই পুনরুদ্ধার সম্পর্কে জানায়, তবে বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনও অপ্রাপ্ত।

ফিলিপিন্সের ক্যাসিনো থেকে তহবিলের অবশিষ্ট অংশের সন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বহুবার অনুরোধ জানিয়েছে, তবে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। তদুপরি, আন্তর্জাতিক আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সহায়তায় তহবিলের গন্তব্য চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলমান।

আদালতের নতুন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় মামলার পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা প্রমাণ ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করবে, যা পরবর্তী শুনানির ভিত্তি হবে। যদি প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

মামলাটির দীর্ঘায়ু ও বহুবার পেছানো হওয়া সত্ত্বেও, বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ পাবে। শেষ পর্যন্ত, চুরি হওয়া তহবিলের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার ও দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করা এই মামলার মূল লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments