32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের বেতনবিহীন বরখাস্তের প্রতিবাদ

গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের বেতনবিহীন বরখাস্তের প্রতিবাদ

গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে আজ সকাল ৮টায় কর্মচারীরা হঠাৎ প্রকাশিত বরখাস্ত নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় সিট‑ইন প্রতিবাদ শুরু করে। নোটিশটি ফ্যাক্টরির প্রবেশদ্বারে ঝুলে ছিল এবং কর্মীদেরকে আজ থেকে ৪ই মার্চ পর্যন্ত কাজ থেকে অব্যাহতি জানায়। কোম্পানির আর্থিক সমস্যার কারণে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদের মূল কারণ হল কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখনও বকেয়া থাকা। ফ্যাক্টরিতে মোট ৭০০েরও বেশি কর্মী কর্মরত, যারা অধিকাংশই মালিকের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা পরিবারিক চাপের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদ উৎসবের পূর্বে।

কর্মীরা ফ্যাক্টরির পুনরায় খোলার এবং বেতন প্রদানের দাবি জানিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের পরিণতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। যদি আলোচনায় সমাধান না হয়, তবে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ ইনস্পেক্টর বিকাশ চৌধুরী现场 উপস্থিত ছিলেন এবং নোটিশের বৈধতা যাচাই করার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ফ্যাক্টরির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ নোটিশে স্বাক্ষর করেছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাঁচামাল সংগ্রহে বাধা ও ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন অর্ডার না পাওয়ায় কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাই উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

বরখাস্তের সময়কাল আজ থেকে ৪ই মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী অনুমোদিত। আইন অনুযায়ী, বরখাস্তের সময় কর্মীদেরকে আইনের বিধান অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং কাজের স্থানে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন থাকবে না।

তবে নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত কর্মীরা এই বরখাস্তের আওতায় পড়বে না এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। এই ব্যতিক্রমের ফলে নিরাপত্তা কর্মীদের কাজের সময়সূচি ও বেতন সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।

কোম্পানির ডিপিএম মোহাম্মদ শাহীনকে বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই যোগাযোগের অভাব কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

গার্মেন্টস সেক্টরে রমজান ও ঈদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এই ধরনের শ্রমিক বিরোধ সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফ্যাক্টরির বন্ধ হওয়া মানে অস্থায়ীভাবে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে, যা ক্রেতাদের অর্ডার পূরণে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

অধিকন্তু, শ্রমিকদের বেতনবিহীন অবস্থায় কাজ না করা ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং অন্যান্য গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র।

দীর্ঘমেয়াদে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে শ্রমিকদের সমবেত পদক্ষেপ উৎপাদন বন্ধের সময় বাড়িয়ে দিতে পারে এবং কোম্পানির আর্থিক পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই রাবাব ফ্যাশনকে দ্রুত আর্থিক পুনর্গঠন ও কাঁচামাল সরবরাহের বিকল্প খোঁজার পাশাপাশি শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে হঠাৎ বরখাস্ত নোটিশের ফলে কর্মীদের বেতনবিহীন অবস্থায় সিট‑ইন প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। নোটিশে কাঁচামাল সংগ্রহের বাধা ও অর্ডার হ্রাসকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং আইন অনুযায়ী ৪ই মার্চ পর্যন্ত বরখাস্ত কার্যকর থাকবে। এই পরিস্থিতি গার্মেন্টস শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল ও শ্রমিক সম্পর্কের উপর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments