শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দল মঙ্গলবারই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। রেইন‑ড্রপের ফলে জিম্বাবুয়ে আইরল্যান্ডের সঙ্গে কোনো বল না খেলে ম্যাচ বাতিল হওয়ায় দু’দলই এক পয়েন্ট পায়, ফলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টের ঘাটতি বাড়ে এবং দলটি শীর্ষে উঠতে পারে না।
অস্ট্রেলিয়ার শোকের কারণ কেবল ফলাফল নয়, বরং দলীয় গঠনেও বড় সমস্যার প্রকাশ। শীর্ষ গতি বলারার প্যাট কুমিন্স এবং জোশ হ্যাজলউড দুজনই আঘাতের কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেননি। ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শও প্রশিক্ষণ সেশনে গর্ভের নীচে আঘাত পেয়ে টেস্টিকুলার রক্তপাতের শিকার হওয়ায় প্রথম দুই ম্যাচ মিস করেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার গতি আক্রমণ পূর্বের উজ্জ্বলতা হারিয়ে “পূর্বের গৌরবের ছায়া”র মতো রয়ে যায়, বিশেষ করে হ্যাজলউড, কুমিন্স এবং আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে অবসরপ্রাপ্ত মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক টি২০ পারফরম্যান্সও সমালোচনার মুখে। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ছয়টি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলটি পাঁচটি জয় এবং একটি ড্র অর্জন করলেও, সেই সময়ের মূল খেলোয়াড়দের ফর্মে বড় পতন লক্ষ্য করা যায়। ক্যামারন গ্রিন, টিম ডেভিড, জোশ ইনগ্লিস, জেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডোয়ারশুইসের আউটপুট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে, যা ভারত এ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ হারের পেছনে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। কোপার কনলি’কে দলে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে মন্তব্যে বলা হয়েছে যে এটি “একটি মেষকে শিকারের দিকে ছোড়ার মতো”। একই সঙ্গে, টেস্টের কিংবদন্তি স্টিভ স্মিথকে বাদ দেওয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্মিথ বিগ ব্যাশ লিগে শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফর্মে ছিলেন এবং স্পিনের বিরুদ্ধে তার অভিজ্ঞতা দলকে উপকারে আসতে পারত। তিনি গত সপ্তাহে কভার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন এবং জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর সপ্তাহান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াডে যোগ দেন।
স্মিথের অন্তর্ভুক্তি সত্ত্বেও, কেন তিনি মার্শের আঘাতের পাঁচ দিন পরই কলম্বোতে উপস্থিত হননি, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত, স্মিথকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অপরিহার্য ম্যাচে বাদ দেওয়া হয়, যদিও সেই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্টে বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার এই গ্রুপ পর্যায়ের ব্যর্থতা এবং নির্বাচনী ত্রুটিগুলি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, উচ্চ দায়িত্বের মুহূর্তে দলটি যে মূল খেলোয়াড়দের উপর নির্ভর করত, তারা একের পর এক ফর্মের শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার টি২০ দলকে এখন পুনর্গঠন ও কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসা সম্ভব হয়।
শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চিত। দলটি কীভাবে এই ব্যর্থতা থেকে শিখে ভবিষ্যৎ গেমে ফিরে আসবে, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভক্তদের নজরে থাকবে।



