চট্টগ্রাম র্যাবের দল ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে নবীউল হক হত্যার প্রধান আসামি মো. সুমন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি একই এলাকায় বাস করতেন এবং র্যাবের তথ্য অনুসারে তিনি মামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।
অভিযানটি র্যাবের গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় দাখিল হওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় মো. সুমনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। র্যাব এই তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ দল গঠন করে মাদামবিবিরহাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায় এবং সুমনকে আটক করে।
মো. সুমনের পিতার নাম রহমত উল্ল্যাহ, যাকে রুম্মা নামেও চেনা যায়। পরিবারটি সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড এলাকায় বসবাস করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিচয় ও ঠিকানা র্যাবের তথ্য সংগ্রহের সময় নিশ্চিত করা হয়, যা দ্রুত গ্রেপ্তার কার্যক্রমে সহায়তা করে।
মাদামবিবিরহাট এলাকায় গ্রেপ্তারটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এলাকায় র্যাবের উপস্থিতি ও কার্যক্রমের প্রতি কিছুটা স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তবে একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সুমনকে র্যাবের সহকারী পরিচালক এ.আর.এম. মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার পরপরই তাকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের পরপরই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ড থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলায় প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আদালতে দাখিলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মো. সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে একাধিক ধারা, যার মধ্যে রয়েছে হত্যার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের অন্যান্য ধারা। আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলবে।
র্যাবের সহকারী পরিচালক মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করেন, “গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং এখন তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এই গ্রেপ্তারটি সীতাকুণ্ডে চলমান অপরাধমূলক তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। র্যাবের কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধের শিকড় খুঁজে বের করতে সহায়তা করা হচ্ছে।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন, সাক্ষী দৃষ্টান্ত এবং আইনগত যুক্তি উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যথাসময়ে জানানো হবে এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা সীতাকুণ্ডে অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।



