নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলে সেক্রেটারিয়েটের ক্যাবিনেট ডিভিশনে প্রথম ক্যাবিনেট সভা এবং সচিবসভা সভা পরিচালনা করবেন। ক্যাবিনেট সভা দুপুর ৩টায়, সচিবসভা সভা ৪টায় শুরু হবে বলে সরকারী নোটিশে জানানো হয়েছে।
এই সভাগুলো সেক্রেটারিয়েটে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তােকের প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর অফিসে না গিয়ে সরাসরি সরকারী কাজের কেন্দ্রস্থলে উপস্থিতি চিহ্নিত হয়েছে। গত দশকের বেশিরভাগ ক্যাবিনেট ও সচিবসভা সভা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই পরিবর্তনকে নতুন সরকারের স্বতন্ত্রতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথের পর রাতেই ক্যাবিনেট ডিভিশন গেজেটের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্ববণ্টন প্রকাশ করে।
শপথের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুলের মালা অর্পণ করেন। এই পদক্ষেপটি দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সম্মান জানাতে নতুন সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এরপর তিনি তার পিতামাতার সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পিতারূপে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আনিসুর রহমান জিকো এবং মাতারূপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এই ভিজিটটি নতুন সরকারের পারিবারিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে।
সেক্রেটারিয়েটে ক্যাবিনেট ও সচিবসভা সভার এজেন্ডা সম্পর্কে এখনো কোনো বিশেষ বিষয় প্রকাশিত হয়নি। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, উভয় সভা মূলত পরিচয়মূলক এবং নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নীতি নির্দেশনা দেওয়ার জন্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সকাল জুহরের নামাজ শেষে এবং মধ্যাহ্নভোজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্যাবিনেট ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকে নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাজের দিকনির্দেশনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের কথা বলা হতে পারে।
বিপক্ষের দলগুলো এই প্রথম সভা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন সরকারের ক্যাবিনেট ও সচিবসভা সভা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠন ও নীতি বাস্তবায়নের সূচনা হতে পারে। নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর মূল বিষয়গুলোকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য এই সভাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এই সভাগুলোকে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবা কার্যক্রমের নতুন দিক নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। সরকারী দপ্তরগুলো ইতিমধ্যে সভার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও উপকরণ প্রস্তুত করেছে।
ক্যাবিনেট ও সচিবসভা সভা শেষ হওয়ার পর, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারী কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রথম সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের ক্যাবিনেট ও সচিবসভা সভা নতুন সরকারের কার্যকরী শুরুর প্রতীক এবং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।



