বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের মাধ্যমে গত রাতেই ২৮টি বাংলাদেশি নাবালককে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১১টি ছেলে ও ১৭টি মেয়ে অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা গত এক বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন শেল্টার হোমে অবস্থান করছিলেন।
ইন্ডিয়ান পুলিশ নাবালকদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার সময় শারশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ ও সহকারী কমিশনার (ল্যান্ড) নিয়াজ মখদুমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। উভয় পক্ষের সমন্বয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ এসএম শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, নাবালকরা মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত রুটে ভারত প্রবেশ করেছিল। ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের গ্রেফতার করে শেল্টার হোমে রাখে, যেখানে তারা এক বছরের বেশি সময় কাটিয়েছে।
পাচার সংক্রান্ত তদন্তের পর, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠিপত্রের মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করা হয়। এই সমন্বয়ের ফলস্বরূপ নাবালকদের বিশেষ ভ্রমণ পারমিট প্রদান করে চেকপোস্টের মাধ্যমে প্রস্থান অনুমোদন করা হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর, নাবালকরা একই রাতে বেঞ্চাপোল পোর্ট পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়। স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোর ও মহিলা আইনজীবী সমিতি তাদের গ্রহণ করে, যাতে পরিবারে পুনর্মিলন সহজ হয়।
এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দুই দেশের সীমান্তে চলমান মানব পাচার বিরোধী সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বে একই চেকপোস্টের মাধ্যমে অনুরূপ পুনর্বাসন ঘটেছে, যেখানে সীমান্ত পারাপারের সময় সনাক্তকৃত নাবালকদের দ্রুত রিলোডিং নিশ্চিত করা হয়েছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নিরাপত্তা ও মানবিক দিক থেকে সীমান্তে সমন্বিত পদক্ষেপগুলো নাবালক পাচার রোধে মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বয় বাড়াতে উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো প্রয়োজন।
বেনাপোল চেকপোস্টের এই কার্যক্রমের ফলে নাবালকদের পরিবারে পুনর্মিলন দ্রুততর হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক দায়িত্বের প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ইতিমধ্যে নাবালকদের নিরাপদে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অধিকন্তু, রাইটস যশোর ও মহিলা আইনজীবী সমিতি নাবালকদের পুনর্বাসনের পরবর্তী পর্যায়ে মানসিক সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করবে বলে জানায়। এ ধরণের সমন্বিত সহায়তা নাবালকদের পুনরায় সমাজে সংহত করার জন্য অপরিহার্য।
দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চলমান সংলাপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি নাবালককে নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সীমান্তে মানব পাচার নেটওয়ার্ককে দুর্বল করতে সহায়ক হবে।
সর্বশেষে, বেঞ্চাপোল চেকপোস্টের নিরাপত্তা কর্মীরা নাবালকদের হস্তান্তরের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে কোনো অনিচ্ছাকৃত ঘটনার সম্ভাবনা না থাকে। এ ধরনের সতর্কতা ভবিষ্যতে অনুরূপ হস্তান্তরে মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।
এই পুনর্বাসন কেসটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা নাবালক পাচার মোকাবেলায় দুই দেশের দৃঢ় ইচ্ছা ও কার্যকরী পদক্ষেপকে তুলে ধরে।



