১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নওগাঁর টুফ মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌদ্দ মাইল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস এবং মাইক্রোবাসের মুখোমুখি ধাক্কা ঘটেছে। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক আব্দুস সামাদ প্রাণ হারিয়েছেন, আর মোট পাঁচজন গায়ে-গোড়া আহত হয়েছেন।
মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে আসা আব্দুস সামাদ, যিনি ইসমাইলের ছেলে। আহতদের মধ্যে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পাটি আমলাই গ্রাম থেকে সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম, একই গ্রাম থেকে রাব্বি, এবং ধামইরহাট উপজেলার সিঙ্গারু গ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত।
মহামারী পরবর্তী সময়ে মাহমুদা বেগমের স্বামী ও পরিবার রোগীর চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে গিয়ে মাইক্রোবাসে যাত্রা শুরু করেন। গন্তব্যের পথে মহাদেবপুরে পৌঁছানোর মুহূর্তে বাস এবং মাইক্রোবাসের পথচ্যুতি ঘটে, ফলে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ ভেঙে যায় এবং চালক আব্দুস সামাদ গাড়ির নিচে চাপা পড়ে।
ধাক্কা ঘটার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। গায়ে-গোড়া আহতদের মধ্যে চালক আব্দুস সামাদকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাত ১২টার কাছাকাছি আব্দুস সামাদের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অন্য চারজন আহতকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানা থেকে শহিদুল ইসলাম নামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়। ধাক্কায় জড়িত বাস ও মাইক্রোবাস উভয়ই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার মূল কারণ হল দু’গাড়ির পথচ্যুতি ও অপ্রতুল সিগন্যালিং, যা তদন্তের অধীনে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর ড্রাইভারের লাইসেন্স, গাড়ির টেকনিক্যাল শর্ত এবং রোড সাইনেজের যথার্থতা পর্যালোচনা করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে, এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সিভিলি ও ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি গৃহীত রেকর্ডে গাড়ির গতি, চালকের অবস্থা এবং রোডের অবস্থা যাচাই করা হবে।
এই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং চালকদের সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।



