32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকজেনেভা আলোচনায় ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের অগ্রগতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

জেনেভা আলোচনায় ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের অগ্রগতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ গেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন ও রাশিয়া প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দিনের আলোচনার সূচনা সম্পর্কে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত সমাপ্তির পথে “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” অর্জিত হয়েছে। তিনি এই অগ্রগতিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে উভয় পক্ষকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যুদ্ধের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হওয়ার গর্ব প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা বুধবার গেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে রাশিয়ার সর্বোচ্চ দাবিগুলি থেকে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় সমঝোতার সম্ভাবনা সীমিত। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০% এলাকা, বিশেষ করে পূর্বের ডনবাস অঞ্চলের বড় অংশ দখল করে আছে এবং বাকি অঞ্চলগুলোও ছেড়ে দিতে চায়, যা ইউক্রেন স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার এই দাবিগুলি পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কমে যায়। ইউক্রেনের দৃষ্টিতে, রাশিয়ার সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্বাক্ষরের আগে পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দৃঢ় নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় আক্রমণ রোধ করা যায়। এই শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেনের সরকার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনকে সুইজারল্যান্ডে আলোচনার সফলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়েছেন, তবে রাশিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। এই অবস্থানকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি ন্যায়সঙ্গত নয় বলে বিবেচনা করে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্পের বারবার ইউক্রেনকে আলোচনার মধ্যস্থতা করতে বলার ফলে ইউক্রেনকে অপ্রয়োজনীয় চাপে ফেলছে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে বিজয়ী করে দিলে স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয় এবং তিনি আশা করেন যে ট্রাম্পের এই পদ্ধতি কেবল কৌশলগত নয়, বাস্তব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়।

ইউক্রেনের শীর্ষ আলোচক রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের আলোচনায় মূলত ব্যবহারিক বিষয় এবং সম্ভাব্য সমাধানের প্রক্রিয়ার উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট ধাপ এবং বাস্তবিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত চুক্তি এখনও দূরে।

আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত অনুসারে রাশিয়া ও কিয়েভ উভয়ের ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের জনগণ তাদের রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়াই করছে এবং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র লক্ষ্য। জেলেনস্কি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে কী চাওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট না হলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

এই আলোচনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ গেনেভা পূর্বে ২০১৪ এবং ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বহুবারের আলোচনার পরেও চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বর্তমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নতুন গতিবিধি আনতে পারে, তবে রাশিয়ার কঠোর অবস্থান পরিবর্তন না করলে সমঝোতা এখনও দূরে।

আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আগামী সপ্তাহে গেনেভায় পুনরায় মিলিত হয়ে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং অঞ্চলগত সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চূড়ান্ত চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments