বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন সরকারকে মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে জনগণের প্রকৃত চাহিদা রাজনীতি ও ক্ষমতার লড়াইয়ের চেয়ে সরল।
জোটি প্রশ্ন তোলেন, “পদ ও ক্ষমতার জন্য এত লড়াই কেন? সবার সেবা ও দেশের মঙ্গলের জন্য হওয়া উচিত, তবু বাস্তবতা কীভাবে বদলে গেছে?” তিনি সরকারকে জনগণের সেবায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
তার পোস্টে দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত হাসপাতাল, কম কর্মী, এবং অবহেলিত সড়ক সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
হাসপাতালের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১,৫০০ বিছানা থাকা সত্ত্বেও ৫,০০০ এর বেশি রোগী সেবা পাচ্ছেন, যেখানে ডাক্তারের ও নার্সের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ ধরনের পরিবেশে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
জোটি লিখেছেন, “মাথাব্যথা হলে কীভাবে চিকিৎসা পাব? ভুলে যান।” এই বাক্যটি রোগীর হতাশা ও সেবা ঘাটতির প্রতি তার উদ্বেগকে প্রকাশ করে।
সড়ক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমার্গ ছাড়া বেশিরভাগ সড়কই নিরাপদ নয়, এমনকি সুস্থ মানুষও আঘাত পেতে পারে। অবহেলিত রাস্তাগুলোকে তিনি দেশের অবকাঠামোর বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও রোগীর অবস্থার কথা বলার সময় তিনি বলেন, “এদের অবস্থা কল্পনা করা কঠিন, আল্লাহই জানেন।” এই গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সরকারের দায়িত্বকে তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।
জোটি নিজে বলেন, “আমরা, দেশের মানুষ, খুবই সরল। শুধু মৌলিক চাহিদা পূরণ হলে আর কোনো প্রশ্ন না থাকে।” তিনি শিক্ষার, স্বাস্থ্যের, সড়ক ব্যবস্থার এবং পণ্যের মূল্যের নিয়ন্ত্রণকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের অগ্রাধিকার না দিলে জনগণ সহজে সন্তুষ্ট হয় না, জোটি এ বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, “আপনাদের যা দরকার, তা ঠিক করুন, অন্য সবকিছু আপনারা যেভাবে চান তেমনই করতে পারেন, কেউ প্রশ্ন করবে না।” এই বক্তব্যে তিনি সরকারের কাজের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেছেন।
ক্যাপ্টেন জোটি ক্রিকেট মাঠে নেতৃত্বের জন্য পরিচিত, তবে তার এই সামাজিক উদ্বেগ দেখায় যে তিনি ক্রীড়ার বাইরে দেশের সমস্যাগুলোতে মনোযোগী। তিনি তার অনুসারীদের সঙ্গে এই বিষয়গুলো শেয়ার করে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে চান।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়, তবে জোটি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধুমাত্র জনগণের মৌলিক চাহিদার ওপর জোর দেন। তার আহ্বানটি সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা তা সময়ই বলবে।
এই প্রকাশনা থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক সেবা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও পণ্যের মূল্য—যদি সঠিকভাবে নিশ্চিত না হয়, তবে দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি বিপন্ন হতে পারে। জোটি এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ক্যাপ্টেনের এই সামাজিক বার্তা ক্রীড়া জগতের বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে, যা দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি স্মরণীয় আহ্বান হিসেবে কাজ করবে।



