27 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশরীয়তপুরে মাছ চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতনের মামলা দাখিল

শরীয়তপুরে মাছ চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতনের মামলা দাখিল

শরীয়তপুরের ডামুড্যা এলাকায় ‘মাছ চুরি’ অভিযোগে এক যুবককে হাতে পা বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগে ডামুড্যা থানা থেকে অপরাধমূলক মামলা দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আহত যুবকের বড় বোন মাকসুদা বেগম মামলার বাদী হিসেবে শিকাগো করেন এবং থানা ওসি মো. রবিউল হক মামলার রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করেন।

আহত যুবক সেলিম পাইক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসা চলমান হলেও, পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে পরিবার জানিয়েছে। সেলিমের বোন মাকসুদা বেগম উল্লেখ করেন, চিকিৎসা বিলম্বিত হলে ডান পা কেটে ফেলতে হতে পারে এমন সতর্কতা ডাক্তারদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ডামুড্যা এলাকায় ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন লোক ‘মাছ চুরি’ অভিযোগে সেলিমকে গ্রুপে ঘিরে হাতে পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের পর সেলিমকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছান। নির্যাতনের ধরন ও পরিমাণ সম্পর্কে স্থানীয় সূত্র জানায়, সেলিমের শারীরিক আঘাতের মধ্যে পা ও হাতের গায়ে চোট, পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

থানা ওসি মো. রবিউল হক জানান, মামলাটি অপরাধ রেজিস্ট্রেশন শাখায় দাখিলের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গ্রেফতারি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি করতে পারার অভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। গ্রেপ্তারি অক্ষমতার কারণ হিসেবে পুলিশকে যথাযথ প্রমাণের অভাব এবং সন্দেহভাজনদের গোপনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

কনেশ্বর ইউনিয়নের যুবদল সভাপতি ইব্রাহীম মিয়া ঘটনাটিকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে সমালোচনা করেন এবং সেলিমের শিকারের জন্য কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সেলিমের কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, ফলে এই ধরনের নির্যাতন সমাজের নৈতিক মানদণ্ডকে ক্ষুণ্ণ করে।

আইনি দিক থেকে, ডামুড্যা থানা মামলাটি রেজিস্ট্রেশন শাখায় ‘শারীরিক নির্যাতন’ ও ‘অবৈধ গ্রেফতার’ এর অধীনে দায়ের করেছে। তদন্তকারী দলকে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী তালিকা তৈরি এবং অপরাধস্থল পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক প্রমাণ যদি যথেষ্ট হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘শারীরিক আঘাতের অপরাধ’ এবং ‘অবৈধ গ্রেফতার’ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সেলিমের চিকিৎসা খরচের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও দাতাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিক চিকিৎসা পেতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি স্থানীয় সমাজে সহানুভূতি ও সমর্থনের আহ্বান জাগিয়েছে।

আসন্ন আদালত শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে থানা ওসি জানান, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে শোনানি দ্রুত নির্ধারিত হবে। তদন্তকারী দলকে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, নির্যাতনের সময় উপস্থিত ছিলেন এমন সাক্ষীদের বিবৃতি নথিভুক্ত করতে হবে।

পুলিশের গ্রেপ্তারি অক্ষমতা এবং মামলার জটিলতা বিবেচনা করে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি একই অঞ্চলে অনুরূপ ঘটনা ঘটার পর, স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে।

এই মামলাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সেলিমের পরিবার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো মামলার দ্রুত সমাধান ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে চলেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments