১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত প্রায় ১১টায়, ঢাকা শহরের শাহবাগে এক বিশাল প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক সরাসরি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে ঘটনাবলি সম্প্রচার করছিলেন। একই সময়ে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরের পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদী সশস্ত্র হয়ে শাহবাগের দিকে এগিয়ে আসে, ফলে সড়ক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী দলগুলো শাহবাগ ফুটওভার ব্রিজে জমায়েত হয় এবং উচ্চস্বরে স্লোগান শোনায়, যা শহরের অন্যান্য অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় অটোরিকশা চালিয়ে যান, আর পরিবেশের উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
সেই মুহূর্তে, প্রতিবেদক শাহবাগের ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে প্রথম আলোর লাইভ ফিডে ঘটনাগুলো দেখাচ্ছিলেন। তিনি জানালেন যে, তার মনের উদ্বেগ বাড়ছে এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে, প্রতিবাদকারীরা কি অফিসের দিকে অগ্রসর হবে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী একটি অজানা গণমাধ্যম কর্মী, যিনি প্রতিবেদকের কাছাকাছি ছিলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কি প্রথম আলোতে কাজ করেন। এই প্রশ্নের পর, প্রতিবেদক তার পরিচয় গোপন রাখতে প্রথম আলোর আইডি কার্ডটি লুকিয়ে রাখেন এবং মুখে মাস্ক পরেন।
প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে মিশে, তিনি দ্রুত শাহবাগ থেকে ৮-১০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত কারওয়ান বাজারে পৌঁছান। অফিসের সামনে পৌঁছে তিনি দেখেন, ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুনের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রতিবাদকারীরা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল এবং ইটপাটকেল ছুঁড়ে দিচ্ছিল।
অফিসের ভেতরে অগ্নিকাণ্ডের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো ভবন জ্বলে ওঠে। প্রতিবাদকারীরা আগুনের চারপাশে ঘুরে দাঁড়িয়ে, কখনো কখনো ইট ছুঁড়ে ভবনের কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।
প্রতিবাদকারীদের আক্রমণাত্মক আচরণে, প্রতিবেদক প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করেন কেন তারা প্রথম আলোর অফিসে আগুন জ্বালিয়েছে, তবে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে, প্রশ্ন করা নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
অফিসের সামনে আরও বড় একটি প্রতিবাদ মিছিল গড়ে ওঠে এবং সেখানে থেকে একটি ঘোষণা শোনা যায়, যদিও ঘোষণার বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এই মিছিলের উপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও বিশাল মাত্রায় নিয়ে যায়।
প্রতিবাদে জড়িত বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবি ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলেও, প্রথম আলোর অফিসে আক্রমণ ও অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে মিডিয়ার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দিক থেকে, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয় এবং তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে, প্রতিবাদকারীদের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা বিলম্ব হয়।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের আক্রমণ রোধে আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন হতে পারে।
অবধি, শাহবাগের প্রতিবাদ এবং প্রথম আলো কার্যালয়ের ওপর আক্রমণ দুটোই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



