মুম্বাইতে ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ৬০ বছর বয়সী প্রবীণা দেশপান্দে বহুদিনের মাল্টিপল মাইলোমা রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের পর নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ সমাহি একই দিন বিকেল তিনটায় চাকালা পার্সি ওয়াডা, আন্দেরি ইস্টের হিন্দু শ্মশানে সম্পন্ন হয়।
প্রবীণা ২০১৯ সাল থেকে এই রোগের চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন এবং তার অবস্থা সম্পর্কে অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হয়। পরিবার তার শেষ মুহূর্তের তথ্য প্রকাশ করে অনুসারীদের জানায় যে তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
পরিবারের প্রকাশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময়ের রোগের সঙ্গে সংগ্রাম করার পর তিনি আর কষ্টে না থেকে শান্তিতে বিশ্রাম নেবেন। এই সংবাদটি তার অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয় এবং দ্রুতই ভক্তদের মধ্যে শোকের স্রোত বইতে থাকে।
সিনে ও টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (CINTAA)ও প্রবীণার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে একটি টুইট পোস্ট করে। সংস্থাটি তার ২০০৮ সাল থেকে সদস্যপদ উল্লেখ করে গভীর শোকের কথা জানায় এবং তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানায়।
প্রবীণা দেশপান্দের ক্যারিয়ার মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, থিয়েটার এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্মে বিস্তৃত। তিনি সমর্থনকারী চরিত্রে গভীরতা আনতে পারদর্শী ছিলেন, যা সীমিত স্ক্রিন টাইমেও দর্শকের মনে ছাপ ফেলত।
তার অভিনয়ের স্বাক্ষর ছিল সূক্ষ্মতা ও স্বাভাবিকতা, যা তাকে বহু ছবিতে স্মরণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে তিনি ‘রেডি’ ছবিতে শালু চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই ছবিতে সালমান খান ও আসিনের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল, যদিও তিনি প্রধান চরিত্রে ছিলেন না।
প্রবীণা ‘পারমানু: দ্য স্টোরি অফ পোকরান’ ছবিতে জন আব্রাহামের সঙ্গে কাজ করেন, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বভূমি পালন করেন। এই প্রকল্পটি তার বহুমুখী দক্ষতা প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার পরবর্তী উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘এক ভিলেইন’ রয়েছে, যেখানে সিধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এই চলচ্চিত্রে তার পারফরম্যান্স সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং দর্শকের কাছেও ভালো সাড়া পায়।
‘জলেবি’ ছবিতে রেহা চক্রবর্তী সঙ্গে তার সংযোগ আরেকটি মাইলফলক। এই সিরিজে তিনি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করে দেখিয়েছেন, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।
প্রবীণা দেশপান্দের মৃত্যু শিল্প জগতে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার সমর্থনকারী চরিত্রে যে স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ অভিনেতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
শোকাহত ভক্ত ও সহকর্মীরা তার কাজের পুনরায় দেখার মাধ্যমে তার স্মৃতিকে জীবিত রাখতে পারেন এবং শিল্পের প্রতি তার অবদানের মূল্যায়ন করতে পারেন। শিল্পের প্রতি তার নিষ্ঠা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উদাহরণ রয়ে যাবে।



