ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার মিরপুরে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে সরকার কোনো ধরনের ছাড়‑ছাড়ি প্রদান করবে না।
মিরপুরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও পার্টি কর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ হওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের লক্ষ্য ছিল শহরের আবর্জনা হ্রাস করে নাগরিকদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, যা তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে মানুষের মনোভাবও ইতিবাচক থাকে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি বলেন, পরিষ্কার পরিবেশের সঙ্গে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটাই সরকারকে পরিবেশগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করার মূল কারণ।
গতকালই তিনি ও তার দল দু’টি শপথ গ্রহণ করেছে, যা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। শপথের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করা, যা তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জুলাই সনদ না মেনে চললে সরকারকে কোনো রকমের আর্থিক বা নীতি‑সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রদান করা যাবে না। তিনি এই অবস্থানকে স্পষ্ট করে বলেন, যাতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই নীতির গুরুত্ব স্বীকার করে।
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হয়, তবে তরিক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে আসা সম্ভব হতো না, এবং তিনি নিজেও বিরোধী দলের প্রধান হতে পারতেন না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জুলাই সনদের রাজনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্যের পেছনে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, যেখানে তিনি পার্টির সদস্যদের এবং সমর্থকদের সঙ্গে সংহতি বজায় রেখে সরকারকে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না হলে সরকারী ছাড়‑ছাড়ি বন্ধ করার হুমকি পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই সতর্কতা সংসদে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। পার্টির নেতৃত্বের এই অবস্থানকে যদি সরকার গ্রহণ করে, তবে তা দেশের নীতি‑নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একটি নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদে জুলাই সনদের চেতনা বাস্তবায়ন করা সকলের দায়িত্ব, যাতে দেশের উন্নয়ন ও নাগরিকদের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হয়।
এই ঘোষণার পর পার্টির অন্যান্য নেতারা ও কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় সভায় এই বার্তাকে সমর্থন জানিয়েছেন, যদিও সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে সংসদে জুলাই সনদ সংক্রান্ত আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হতে পারে, যা দেশের নীতি‑নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সারসংক্ষেপে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর ডা. শফিকুর রহমান জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে সরকারী ছাড়‑ছাড়ি বন্ধ করার সতর্কতা দিয়ে পার্টির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ভবিষ্যতে সংসদে এই বিষয়ের ওপর তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।



