বিএনপি‑ভিত্তিক নতুন সরকার বাংলাদেশকে লিডি (Least Developed Country) ক্যাটেগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনা কমপক্ষে তিন বছর পিছিয়ে রাখার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করবে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বুধবার (আগামীকাল) থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি তাদের পার্টির নীতি অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে, আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় ও নথিপত্র প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দেবে। উক্ত বিভাগকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
ব্যবসা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী সরকার, যার নেতৃত্বে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ছিলেন, থেকে স্নাতকত্বে বিলম্বের দাবি করে আসছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে দেশটি এখনো স্নাতকত্বের পরিপক্কতা অর্জন করেনি এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষ করে ষোলোটি প্রধান ব্যবসা চেম্বার ও বাণিজ্য সংস্থা একটি যৌথ চিঠিতে অস্থায়ী সরকারের কাছে স্নাতকত্ব কমপক্ষে ছয় বছর পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ সুদের হার, কোভিড‑১৯ মহামারীর পরিণতি এবং রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাঘাতের কারণে বিভিন্ন শিল্পখাতে আর্থিক চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশের লিডি স্নাতকত্বের আনুষ্ঠানিক তারিখ ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত। দেশটি ইতিমধ্যে আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক‑পরিবেশগত দুর্বলতার তিনটি মানদণ্ড দু’বার পূরণ করেছে এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে। এই মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (UN CDP) শেষ সিদ্ধান্ত নেবে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে সরকার জাতিসংঘের CDP‑কে জমা দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নের দৃঢ়তা তুলে ধরেছে। তবে একই সময়ে একটি স্বাধীন জাতিসংঘ প্যানেল দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, স্নাতকত্বের প্রস্তুতি এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি (STS) বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্টতা চেয়েছে। প্যানেলটি এই বিষয়গুলো নিয়ে অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপটি পার্টির দীর্ঘমেয়াদী নীতি ও ব্যবসা সংস্থার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। যদি আবেদন সফল হয়, তবে বাংলাদেশ লিডি স্নাতকত্বের সময়সূচি পরিবর্তিত হবে, যা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে জাতিসংঘের CDP‑কে জমা দেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। আবেদন জমা হওয়ার পর, UN CDP‑এর পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা দেশের উন্নয়ন কৌশলকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



