বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) রপ্তানি ২০২৫‑২৬ আর্থিক বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৩.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারী রপ্তানি প্রচার ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি মোট $২৬৯.৮৪ মিলিয়ন, যা একই সময়ে গত বছর $২৩৭.৬৭ মিলিয়নের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সম্পূর্ণ ২০২৪‑২৫ আর্থিক বছরে আইটি সেবা রপ্তানি প্রায় $৬২৯ মিলিয়ন পৌঁছেছে, যা দেশের ডিজিটাল সেবা বাজারের সম্প্রসারণের সূচক। এই বৃদ্ধি সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, পরামর্শ ও আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন উপশাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিভিন্ন উপশাখায় সমানভাবে উন্নতি দেখা গেলেও, বৃদ্ধির গঠনগত পরিবর্তন বাজারের রূপান্তরকে নির্দেশ করে। বিশেষ করে ইনস্টলেশন ও হার্ডওয়্যার সাপোর্টে তীব্র উত্থান, সফটওয়্যার রপ্তানিতে শক্তিশালী উত্থান, এবং পরামর্শ সেবায় তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে।
ইনস্টলেশন ও হার্ডওয়্যার সাপোর্টের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ১৩৬ শতাংশ বেড়ে $৩.০৯ মিলিয়ন হয়েছে, যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। এই উত্থান ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি শারীরিক অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ার ফলে ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও ডেটা সেন্টার স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
সফটওয়্যার রপ্তানি ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $২১.৩৯ মিলিয়ন হয়েছে। বিশ্বব্যাপী গ্রাহকরা কাস্টমাইজড সমাধান, অটোমেশন টুল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত অ্যাপ্লিকেশন চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে বাংলাদেশি সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য নতুন প্রকল্পের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আইটি-সক্ষম সেবা, বিশেষত ব্যবসা প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং (বিপিও) ক্ষেত্রে ১৬.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $২৩৫.৭২ মিলিয়ন রেকর্ড করেছে। এই সেবা গুলো গ্রাহকের ব্যাক-অফিস, গ্রাহক সেবা ও ডেটা বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজের জন্য চাহিদা বাড়ার ফলে সম্প্রসারিত হয়েছে।
অন্যদিকে, কম্পিউটার পরামর্শ সেবার রপ্তানি ৫৩.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে মাত্র $৯.৬৪ মিলিয়ন হয়েছে। এটি গ্রাহকরা পৃথক পরামর্শের পরিবর্তে একত্রিত সেবা প্যাকেজ গ্রহণের দিকে ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ বাজারকে বিস্তৃত করছে, তবে একই সঙ্গে কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়করণ ও বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধানগুলো মানব সম্পদের চাহিদা হ্রাসের পাশাপাশি নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের চাহিদা বাড়াচ্ছে।
ঢাকার ভিত্তিক সফটওয়্যার কোম্পানি সেফালোয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারদৌস মাহমুদ শাওন জানান, এআই সংযোজনের ফলে অর্ডার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, এআই সফটওয়্যারকে প্রতিস্থাপন করে না, বরং নতুন ধরনের সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়।
অনেক প্রক্রিয়া এখনও কাস্টমাইজড সমাধান, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং চলমান আপডেটের প্রয়োজন করে। এআই মডেলগুলোকে বিদ্যমান সিস্টেমে সংযুক্ত করতে বিশেষজ্ঞ ডেভেলপারদের দক্ষতা অপরিহার্য, ফলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের চাহিদা বাড়ছে।
এই প্রবণতা বাংলাদেশের আইটি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। এআই চালিত চাহিদা বৃদ্ধি রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীশক্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে কর্মসংস্থান কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতা অর্জন জরুরি।
সারসংক্ষেপে, জুলাই‑নভেম্বর সময়কালে রপ্তানি বৃদ্ধি, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সেক্টরের উত্থান এবং পরামর্শ সেবার পতন দেশীয় আইটি শিল্পের রূপান্তরকে চিত্রিত করে। এআই ভিত্তিক সেবা ও পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের কাঠামোও নতুন দিকনির্দেশে এগিয়ে যাবে।



