মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার টি‑২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সি ম্যাচে নেপাল স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে ১২ বছর পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জয়ের আনন্দ ফিরে পেয়েছে। স্কটল্যান্ড ১৭১ রানের লক্ষ্য স্থাপন করে ১৯.২ ওভারে শেষ করলেও নেপালের ব্যাটিং লাইন‑আপ ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক খেলায় লক্ষ্য অতিক্রম করে ১৯.২ ওভারে ১৭১ রানের চাহিদা পূরণ করে।
নেপালের শুরুর ইনিংস কিছুটা সতর্ক ছিল, তবে ওপেনার কুশল ভুর্তেল দ্রুত গতি বাড়িয়ে দলকে সঠিক পথে নিয়ে যান। ভুর্তেল ৪৩ রান তৈরি করে শুরুর আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন, এরপর আসিফ শেখের সঙ্গে মিলিত হয়ে ফাইন‑লেগের ওপর ছক্কা এবং মারক ওয়াটের ওপর বাউন্ডারির মাধ্যমে স্কোর বাড়ান। উভয়ের যৌথ প্রচেষ্টা স্কটল্যান্ডের স্পিন আক্রমণকে সাময়িকভাবে দমন করে, তবে শেষ পর্যায়ে ধীরগতি না রেখে ডিপেন্দ্র সিং আইরির উজ্জ্বল পারফরম্যান্স নেপালের জয় নিশ্চিত করে।
আইরি মাত্র ২৩ ball-এ ৫০ রান সম্পন্ন করেন, যার মধ্যে তিনটি ছক্কা ও চারটি চার রয়েছে। তার আত্মবিশ্বাসী আক্রমণ নেপালের স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের পার্থক্যে লক্ষ্য অর্জন করে। আইরির সঙ্গে গুলশান ঝারও অবিচ্ছিন্ন ২৪ রান যোগ করেন, দুজনের ৭৩ রানের অংশীদারিত্ব চতুর্থ উইকেটে গড়ে উঠে দলকে নিরাপদে জয়ের পথে নিয়ে যায়।
স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে মাইকেল জোন্স ১৭০ রান তৈরি করে দলকে একমাত্র বড় স্কোরার হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন। তিনি আটটি চার এবং তিনটি ছক্কা মারেন, যা স্কটল্যান্ডের মোট স্কোরের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। গর্বের সঙ্গে জোন্সের সঙ্গে জর্জ মুন্সি ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে তোলেন, তবে মুন্সি ২৭ রান করে সুনদীপ জোরার চমৎকার ক্যাচে আউট হন। পরবর্তী ব্যাটাররা বড় ইনিংস গড়তে পারেননি, ফলে স্কটল্যান্ডের মোট স্কোর ১৭১/৭ এ আটকে যায়।
বোলিং দিক থেকে, নেপালের সাম্পল কামি ৩ উইকেটের সঙ্গে ২৫ রান দিয়ে স্কটল্যান্ডের ইনিংস থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার পরপর বোলিং চাপ স্কটল্যান্ডের ব্যাটারদের আউট করতে সহায়তা করে। তদুপরি, স্কটল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ে কয়েকটি ক্যাচ মিস এবং ফিল্ডিং ল্যাপস নেপালের রান সংগ্রহকে সহজ করে দেয়, যা চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
এই জয় নেপালের জন্য ২০১৪ সালে আফগানিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষবার বিশ্বকাপ জয় পাওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের পরের প্রথম বিজয়। দলটি এখন টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে গ্রুপ সি’র অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।



