কর্ণাটক রাজ্যের হাম্পি পর্যটন এলাকার নিকটবর্তী সানাপুরা গ্রামে গত বছর ৬ই মার্চ রাতের অন্ধকারে দুই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই অপরাধে জড়িত তিনজন সন্দেহভাজন—মল্লেশ (যাকে হান্দিমাল্লা নামেও চেনা যায়), সাই এবং শরণাপ্পা—কে কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী বিভাগ, দায়রা জজ আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছে।
অভিযুক্তরা টাকার দাবিতে অস্বীকার করলে, তারা তিনজন পুরুষ পর্যটককে ধাক্কা দিয়ে তুংগা নদীর খালের দিকে ঠেলে দেয়। খালের জলে ডুবে যাওয়ার পর, দুইজন পর্যটক সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, ওডিশা থেকে আসা এক পর্যটক পানিতে ডুবে মারা যায়। এরপর অভিযুক্তরা দুই নারীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় এবং দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় পুলিশ ও আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধটি ঘটার পর দ্রুত তদন্ত শুরু হয় এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত মামলাটি শোনার সময় অপরাধের গৌরবহীনতা ও বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে, এটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে। বিচারক রায়ে বলেন, পর্যটকদের ওপর এ ধরনের নৃশংস আক্রমণ দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
এই রায়ের পর দেশব্যাপী তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের স্রোত বয়ে যায়। বিভিন্ন রাজ্যের নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়। মিডিয়া সংস্থা এনডিটিভি রিপোর্ট করেছে, ২০২৫ সালের মার্চে ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন হয় এবং সরকারকে পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আদালতের রায়ের পর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে, মল্লেশ, সাই ও শরণাপ্পা উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করতে পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান। তদুপরি, স্থানীয় পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সম্ভাব্য সহায়তাকারী ও গোপন নেটওয়ার্কের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই মামলায় ব্যবহৃত প্রমাণের মধ্যে স্থানীয় ক্যামেরা ফুটেজ, শারীরিক প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত। আদালত এই সব প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেছে এবং রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
বিচারিক রায়ের সঙ্গে সঙ্গে, পর্যটন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও তীব্র হয়েছে। হাম্পি ও তার আশেপাশের পর্যটন এলাকা এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত গার্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং জরুরি সেবার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, ভারতীয় পর্যটন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন নৃশংস অপরাধ রোধে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যটক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা মানদণ্ড উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মামলাটির সামাজিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। নারী নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনার ওপর বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, হাম্পি পর্যটন এলাকার এই নৃশংস অপরাধে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের আইনি ব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতি দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। তবে, আপিল প্রক্রিয়া এবং চলমান তদন্তের ফলে মামলার চূড়ান্ত ফলাফল এখনও নির্ধারিত হয়নি। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।



