উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অফ ১৬-এ ১৭ ফেব্রুয়ারি লিসবনের দ্য লুজ স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকাকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে। তিন সপ্তাহের বিরতির পর দুই দল পুনরায় মুখোমুখি হয়, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ প্রথম লেগে এক গোলের সুবিধা নিয়ে মাঠ ছেড়ে যায়।
গোলটি ভিনিসিয়ুসের ৩০তম ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়, যা ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা, শুধুমাত্র নেমার (৪৩ গোল) এর পরে। ভিনিসিয়ুসের গোলের পর তিনি বেনফিকার ভক্তদের দিকে ইঙ্গিত করে উদযাপন করেন, যা রেফারিকে সতর্ক করে এবং তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
উদযাপনের পর ভিনিসিয়ুসের আচরণ নিয়ে বেনফিকার কোচ জোসে মরিনহো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। মরিনহো রেফারিকে অভিযোগ করেন যে ভিনিসিয়ুসের অশালীন আচরণ মাঠে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। রেফারি ম্যাচের মাঝখানে প্রায় দশ মিনিটের বিরতি দেন, যাতে উভয় দলে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা যায়।
বিরতির সময় ভিনিসিয়ুসকে ডাগআউটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মরিনহো কোচের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে এই মুহূর্তে বর্ণবাদী কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, যদিও তা নিশ্চিত নয়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া এবং তার সহকর্মীরা ভিনিসিয়ুসকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর ৮৫তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস আবার বেনফিকার রিউসকে আঘাত করেন, ফলে মরিনহো পুনরায় রেফারিকে অভিযোগ করেন। রেফারিরা ভিনিসিয়ুসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে ডাগআউট থেকে বের করে দেন, ফলে তিনি ম্যাচের শেষ পর্যায়ে মাঠ ছেড়ে যান।
শেষের দিকে বেনফিকা আক্রমণ বাড়িয়ে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষার জোরে কোনো গোল হয় না। রিয়াল মাদ্রিদও একমাত্র গোলের সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে সক্ষম হয়। উভয় দলই দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে; রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকার সঙ্গে পরের সপ্তাহে বার্সেলোনায় ম্যাচটি খেলবে।
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্য একটি প্রথম লেগে পিএসজি মোনাকোর মুখোমুখি হয়। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুনের দু’টি গোলের মাধ্যমে মোনাকো ২-০ এগিয়ে যায়। তবে ২৯তম এবং ৪১তম মিনিটে দিজিয়ে দুয়ে ও আশরাফ হাকিমিরি গলে পিএসজি সমতা ফিরিয়ে আনে, ফলে স্কোর ২-২ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে মোনাকোর আলেক্সান্ডার গোলোভিন লাল কার্ড পান এবং মাঠ ছেড়ে যান, ফলে পিএসজি এক সংখ্যক খেলোয়াড়ের সুবিধা নিয়ে ম্যাচটি শেষ করে ৩-২ স্কোরে জয়লাভ করে। পিএসজি এই ফলাফলে দ্বিতীয় লেগে মোনাকোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা অগ্রগতি বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে।
রিয়াল মাদ্রিদ এবং পিএসজির প্রথম লেগের জয় উভয় দলকে পরবর্তী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাস প্রদান করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকার বিরুদ্ধে অগ্রগতি বজায় রাখতে দ্বিতীয় লেগে গোলের পার্থক্য বাড়াতে চায়, আর পিএসজি মোনাকোর সঙ্গে সমতা রক্ষা করে অগ্রসর হতে চায়। উভয় ম্যাচই ইউরোপীয় শীর্ষ স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তীব্রতা প্রদর্শন করেছে, যা পরবর্তী রাউন্ডে আরও উত্তেজনা বাড়াবে।



