গুজবের স্বর্ণ কণিকা গুজুলেথুতে, জোহানসবার্গের পূর্বে খনি শহর স্প্রিংসের গরু ঘাঁটির পাশে, কয়েক দিন আগে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বর্ণের সন্ধানে তৎপর হয়েছে। একটি দরিদ্র পাড়ার বাসিন্দা গরু ঘাঁটি খনন করার সময় কয়েকটি স্বর্ণের টুকরা পাওয়া দাবি করেন। এই খবরের পর থেকে ডজন ডজন মানুষ পিকঅ্যাক্স ও ফাওয়া নিয়ে ঐ এলাকায় জমা হয়, স্বর্ণের সন্ধানে মাটি ছাঁকছে।
এই কার্যকলাপের দৃশ্য প্রায় এক শতাব্দী আগে দক্ষিণ আফ্রিকার আর্থিক রাজধানি গড়ে তোলা স্বর্ণধনুর স্মরণ করিয়ে দেয়। স্প্রিংস এক সময় স্বর্ণ খনির কেন্দ্র ছিল, তবে শ্যাফ্টের গভীরতা বাড়ার ফলে খনিগুলো কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। আজ শহরটি অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোর দ্বারা বেষ্টিত, যেখানে বহু শরণার্থী ও পার্শ্ববর্তী দেশের অভিবাসী বসবাস করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজ সম্পদ বিভাগ এই সপ্তাহের গুগুলেথুতে অবৈধ খনি কার্যক্রমকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতি উল্লেখ করে অনুমোদনহীন গনির কাজ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিভাগ উল্লেখ করেছে যে, স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য পারদ ও সোডিয়াম সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাটির গুণগত মান ও পানির উৎসকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ স্বর্ণকে কালো বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা জানান যে, স্বর্ণের এক গ্রাম প্রায় একশো ডলার মূল্যের, যা দেশের ন্যূনতম মাসিক মজুরির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে প্রায় তিনশো আটশো ডলার, ফলে স্বর্ণের ছোট পরিমাণই অনেক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আয় এনে দেয়।
কিছু শ্রমিক স্বীকার করেছেন যে, তারা অবৈধ কাজের ঝুঁকি জানেন, তবে সরকার থেকে খনি লাইসেন্স ও কর প্রদান করার সুযোগ না পেলে অন্য কোনো উপায় না থাকায় এই পথে এগিয়ে গেছেন। একজন দুই সন্তানবিশিষ্ট পিতা বলেন, সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে স্বর্ণ বিক্রি ছাড়া অন্য উপায় নেই। অন্য একজন যোগ দেন, এই কাজই তাদেরকে গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করেছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন সরকারী আয় হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনুমোদনহীন খনি কার্যক্রমের ফলে করের হার কমে যায়, যা দেশের খনিজ রাজস্বে বড় ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, পারদ ও সায়ানাইডের অপব্যবহার স্থানীয় কৃষি ও পানীয় জলের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যতে যদি সরকার দ্রুত অনুমোদিত ক্ষুদ্র খনি লাইসেন্স প্রদান করে, তবে অবৈধ কার্যক্রম কমে আনুষ্ঠানিক খনি শিল্পের মাধ্যমে কর সংগ্রহ বাড়তে পারে। তবে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিবেশগত নিয়ম ও নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে, না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখায়, স্বর্ণের আকর্ষণ শ্রমবাজারের ঘাটতি ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান না করা পর্যন্ত অবৈধ খনি কার্যক্রম চালু থাকবে।
সংক্ষেপে, গুগুলেথুতে স্বর্ণের সন্ধানকারী লোকজনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে পরিবেশগত ক্ষতি, অবৈধতা ও করহ্রাসের ঝুঁকি সমানভাবে বাড়ছে। সরকারী নীতি ও নিয়ন্ত্রণের সঠিক ভারসাম্যই এই সমস্যার সমাধান নির্ধারণ করবে।



