ডেলসি রড্রিগেজ, যিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলা সরকারের কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, জানুয়ারি মাসে মার্কিন সরকারের হঠাৎ অপারেশনের পর দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন। ৩ জানুয়ারি মার্কিন সরকার নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তরিত করার পর, ভেনেজুয়েলা শাসন কাঠামোতে অনিশ্চয়তা বাড়ে। রড্রিগেজের নেতৃত্বে সরকারকে উভয়ই সমাজতান্ত্রিক সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তি চাপে নীতি পরিবর্তন করা দরকার।
জানুয়ারি মাসের শীতল রাতের আকাশে ক্যারাকাসের উপরে নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের আলোয় তৈরি একটি বিশাল রূপ রেখা দেখা গিয়েছিল। ভেনেজুয়েলা সরকারের আয়োজন করা ড্রোন শোতে শত শত ড্রোন একত্রে “El pueblo los reclama” (জনতা তাদের ফিরে চায়) লিখে আকাশে ভাসিয়ে দেখিয়েছিল। এই দৃশ্যটি মাদুরোর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তার সমর্থকদের মনোভাব প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
মার্কিন সরকারের এই অপারেশনটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিস্তৃতভাবে প্রচারিত হয়, যেখানে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে অবৈধ মাদক পাচারসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বিচার অপেক্ষা করছে। তাদের বিচারের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে এই ঘটনা ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
রড্রিগেজ, যিনি পূর্বে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করেছেন, মাদুরো ও ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি পুনরায় তুলে ধরেছেন। তিনি ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে মাদুরো ও ফ্লোরেসের নিউ ইয়র্কে থাকা অবস্থায় তাদের প্রত্যাবর্তনের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা দেখা যায়নি।
রড্রিগেজের জন্য এখন একটি জটিল রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিক সমর্থকদের কাছে মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে অ্যান্টি-ইম্পেরিয়ালিস্ট রেটোরিক বজায় রাখছেন, একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তি চাপে নীতি সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার এই দ্বৈত অবস্থান ভেনেজুয়েলা সরকারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
“Trump has implied that Venezuela is now a US protectorate, so she serves at the will of the US president,” বলে চ্যাথাম হাউসের ল্যাটিন আমেরিকা গবেষণা সহকারী ক্রিস্টোফার স্যাবিনাটি মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রড্রিগেজের বিরুদ্ধে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এডমিনিস্ট্রেশন (DEA) তদন্ত চালু রয়েছে, যদিও এখনো কোনো দোষী সাব্যস্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়নি।
DEA-র প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। রড্রিগেজের উপর এই ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সতর্ক করে তুলেছে, যেখানে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
রড্রিগেজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি মাদুরোর পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, “President Maduro had already warned of an attack of this nature due to the desperation of the United States’ energy voracity.” এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি চাহিদা ও ভেনেজুয়েলার ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে মাদুরোর পূর্ব সতর্কতা তুলে ধরে।
এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অফিসিয়াল ঘোষণায় জানানো হয় যে ক্যারাকাস সরকার কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘোষণাটি ভেনেজুয়েলা সরকারের উপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়িয়ে তুলেছে এবং রড্রিগেজকে আরও কঠিন কূটনৈতিক সমঝোতার মুখে ফেলেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে, যেখানে রড্রিগেজের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



